clock ,

নিরাপদে ভোট দেওয়া নিয়ে শঙ্কায় সংখ্যালঘুরা

নিরাপদে ভোট দেওয়া নিয়ে শঙ্কায় সংখ্যালঘুরা

সারাদেশে গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫২২টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে হত্যার ঘটনা ৬১টি। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট থেকে ওই বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই হাজার ১৮৪টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সংঘটিত হয়েছিল। বর্তমানেও সেটা চলছে। এ রকম হলে আগামী নির্বাচনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিরাপদে ভোট দিতে পারবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে। 
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা। 

এতে আরও বলা হয়, গত বছর নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, গণধর্ষণের ঘটনা আছে ২৮টি; উপাসনালয়ে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ৯৫টি; উপাসনালয়ের জমি দখল বা দখলের চেষ্টার ঘটনা ২১টি; বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ১০২টি; অপহরণ-চাঁদা দাবি নির্যাতনের ঘটনা ৩৮টি এবং হত্যা-নির্যাতনের হুমকির ঘটনা ঘটে ৪৭টি। বাড়িঘর, জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের ঘটনা ঘটেছে ৬৬টি। এ ছাড়া অন্যান্য ঘটনা ঘটেছে ২৯টি। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে ৩৬ জন। 
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ। ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক দীপঙ্কর ঘোষের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের দুই সভাপতি অধ্যাপক নিমচন্দ্র ভৌমিক ও নির্মল ডি রোজারিও, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সুব্রত চৌধুরী, কাজল দেবনাথ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, গত বছরের মতো সাম্প্রদায়িক সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪২টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে হত্যার ঘটনা ১১টি, ধর্ষণের ঘটনা একটি, মন্দির-গির্জায় হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ৯টি; বাড়িঘর-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাট, জমি দখল এবং অন্যান্য ঘটনা ২১টি। বর্তমান সময়ে সংখ্যালঘু জনমনে ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশেষ করে নারী, তরুণ-তরুণী প্রতিনিয়ত ভীতি এবং আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিকভাবে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না। এমন অবস্থায় তারা নিরাপদে ভোট দিতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। 

তিনি বলেন, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগ অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক শক্তির পক্ষে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া, প্রচারণায় অংশগ্রহণ এবং তাদের বিজয়ী করার পক্ষে ভোট দিয়ে আসছে। বর্তমান সময়ে যা পুরোপুরি চ্যালেঞ্জের মুখে। এবার জাতীয় নির্বাচনে গণভোটের নামে যুক্ত হয়েছে হ্যাঁ ও না ভোট। যেখানে ধর্মনিরপেক্ষতাকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ঘোষণা করা হয়েছে। যার পক্ষে সরকার ও নির্বাচন কমিশন সরাসরি প্রচার চালাচ্ছে, যা দুঃখ ও দুর্ভাগ্যজনক এবং নিতান্তই পক্ষপাতদুষ্ট বলে আমরা মনে করি। আমরা আরও মনে করি, অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ, বৈষম্যহীন বাংলাদেশের সংবিধান আজ চ্যালেঞ্জের মুখে।

মনীন্দ্র কুমার নাথ দাবি করেন, আন্তর্জাতিক হিন্দু ধর্মীয় সংগঠন ইসকনকে সন্ত্রাসী ট্যাগ লাগিয়ে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কয়েকটি প্রহসনমূলক বিচার ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। একাধিক মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় অভিযুক্ত করে ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার আন্দোলনের নেতা রানা দাশগুপ্তসহ ঐক্য পরিষদের একাধিক নেতাকে স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে দূরে রাখা হয়েছে। এসব মামলা প্রত্যাহার এবং যারা জেলে আটক রয়েছেন তাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ঐক্য পরিষদ সাত দফা দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে
ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন। প্রার্থী হওয়ার কারণে যেন কোনো বাধার সম্মুখীন না হতে হয়। নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণে সমান সুযোগ যেন পায়, তার জন্য নির্বাচন কমিশনকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে।
নির্বাচনী প্রচারে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার ব্যবহার নিষিদ্ধ করার দাবিও জানানো হয়। যদি কোনো প্রার্থী বা কোনো দল নির্বাচনে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতাকে ব্যবহার করে তার শাস্তির বিধান রাখতে হবে।

You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?

আমাদের অনুসরণ করুন

জনপ্রিয় বিভাগ

সাম্প্রতিক মন্তব্য