দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক আদালত আজ এক ঐতিহাসিক রায়ে প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অভিশংসনের মাধ্যমে পদচ্যুত করেছেন। আদালতের আট বিচারপতি সর্বসম্মতিক্রমে ৮-০ ভোটে এই রায় দেন, যা দেশটির গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইউন
সুক ইওলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে প্রধান ছিল:
১. ২০২৪ সালের ৩
ডিসেম্বর রাতে অবৈধভাবে সামরিক
আইন জারি
২. সাংবিধানিক দায়িত্বে অবহেলা
৩. রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার
৪. জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন
৫. দুর্নীতির অভিযোগ
রায় ঘোষণার সময় প্রেসিডেন্ট আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন । ১২২ দিনের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার পর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। গত ডিসেম্বর থেকেই ইউন সুক ইওল কার্যত দায়িত্বহীন অবস্থায় ছিলেন। সর্বশেষ জরিপে ৫৭% জনগণ তার পদচ্যুতির পক্ষে মত দিয়েছিলেন।
রায় ঘোষণার পর রাজধানী সিউলে উভয়পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থান নেয়ায় বড় ধরনের অশান্তি রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, এখন থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে কোনো প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি দক্ষিণ কোরিয়ার গণতন্ত্রের জন্য একটি পরীক্ষার মুহূর্ত, যেখানে শাসকগোষ্ঠীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিশ্ববাসীর নজর থাকবে।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?