যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে সামরিক হামলা চালায়, সে ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনকে কোনো ধরনের সহযোগিতা দেবে না যুক্তরাজ্য। তবে ইরান যদি সংঘাতে জড়িয়ে পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে আঞ্চলিক মিত্রদের সুরক্ষায় সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে লন্ডন। এই প্রেক্ষাপটে ইতোমধ্যে কাতারে রাফায়েল টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাজ্য। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
ব্রিটিশ দৈনিকটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ওপর প্রথম আঘাত হানার বিষয়টি যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক আইনসংক্রান্ত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে কাতার বা অন্যান্য আঞ্চলিক মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে ব্রিটিশ বাহিনী প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকায় জড়াতে পারে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্য কাতারের বিমানবাহিনীতে একটি ইউনিট রাফায়েল টাইফুন যুদ্ধবিমান সংযুক্ত করেছে। লিনকনশায়ার থেকে এসব যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে পাঠানো হয়। এমন সময়ে এই মোতায়েন হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, কাতারের অনুরোধেই এসব যুদ্ধবিমান সেখানে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে কাতারেই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বিমানঘাঁটি অবস্থিত।
চলতি মাসের শুরুতে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হুমকি দিয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বিক্ষোভরতদের সমর্থনে বোমা হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরই এ ধরনের হুমকি আসে। বর্তমানে এ অঞ্চলে যুক্তরাজ্যের সামরিক উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে সীমিত।
বৃহস্পতিবার চীন সফরের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে—এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য ও তার মিত্ররা ঐক্যবদ্ধ।
কিয়ার স্টারমার বলেন, “ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, এ বিষয়ে সবাই একমত। এই লক্ষ্যেই আমরা আমাদের মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি।”
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো আরও জানায়, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন সামরিক বিকল্প উন্মুক্ত রাখতে চাইছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের এপ্রিল ও অক্টোবরে ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ওই সময় ইসরায়েলকে সহায়তা করা দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যও ছিল। এপ্রিল মাসে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের অনির্দিষ্ট সংখ্যক ড্রোন ভূপাতিত করলেও অক্টোবরে সে সংখ্যা ছিল তুলনামূলকভাবে কম।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?