যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের সদস্য সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর ও তাঁর সাবেক স্ত্রী সারা ফার্গুসনের জন্য চলমান সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। যৌন অপরাধে দণ্ডিত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টিনকে ঘিরে নতুন করে প্রকাশ পাওয়া ই–মেইল ও নথিতে এবার উঠে এসেছে তাঁদের দুই কন্যা—প্রিন্সেস বিয়াট্রিচ ও ইউজিনির নাম। বিশ্লেষকদের মতে, এই তথ্যগুলো ইয়র্ক পরিবারের জন্য নতুন করে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত নথি থেকে ইঙ্গিত মিলেছে, এপস্টিনের সঙ্গে দুই প্রিন্সেসের যোগাযোগ পূর্বধারণার চেয়েও ঘনিষ্ঠ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌনকর্মে বাধ্য করার মামলায় সাজা ভোগ শেষে মুক্তি পাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই মায়ামিতে এপস্টিনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন তাঁরা। তখন ইউজিনির বয়স ছিল ১৯ এবং বিয়াট্রিচের ২১ বছর।
কিছু নথিতে আরও দেখা যায়, এপস্টিন তাঁর পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ বা বাকিংহাম প্যালেস ঘুরে দেখানোর ক্ষেত্রেও রাজকুমারীদের যুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি ইয়র্ক পরিবারের উড়োজাহাজভাড়ার অর্থ পরিশোধের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে একটি ই–মেইলে, যেখানে টিকিটের মোট মূল্য উল্লেখ ছিল ১৪ হাজার ৮০ ডলার।
রাজকীয় বিষয়াবলি বিশ্লেষক রিচার্ড পামার বলেন, ই–মেইলগুলোতে দুই প্রিন্সেসের নাম বারবার উঠে আসায় এই অধ্যায় থেকে নিজেদের আলাদা রাখা তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে রাজপরিবার বিষয়ক সাংবাদিক ভিক্টোরিয়া মারফির মতে, ই–মেইলগুলো অস্বস্তিকর হলেও এখনো জনমনে রাজকুমারীদের প্রতি সহানুভূতি রয়েছে। তাঁর ভাষায়, সে সময় তাঁদের যদি কোনো সতর্কবার্তা না দেওয়া হয়ে থাকে, তবে মায়ের আয়োজিত সফরে যাওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি অযৌক্তিক বলা যায় না।
এদিকে লেখক অ্যান্ড্রু লনি দাবি করেছেন, ওই সময় রাজকুমারীরা প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে পুরোপুরি অজ্ঞ ছিলেন—এমন দাবি সঠিক নয়। যদিও এই বক্তব্যের সঙ্গে সবাই একমত নন।
দুই বোন বর্তমানে রাজপরিবারের হয়ে সরাসরি কোনো দায়িত্ব পালন করেন না। তাঁরা নিজেদের পেশাগত জীবন ও দাতব্য কাজে যুক্ত থাকলেও এপস্টিন কেলেঙ্কারির প্রভাব সেখানেও পড়তে শুরু করেছে। ইউজিনি সহপ্রতিষ্ঠিত ‘অ্যান্টি–স্ল্যাভারি কালেক্টিভ’ দাতব্য সংস্থার অনুদান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে আর্থিক বিবরণীতে দেখা যায়।
সব মিলিয়ে, জেফরি এপস্টিনকে ঘিরে নতুন নথি প্রকাশের পর ইয়র্ক পরিবারের ভাবমূর্তি আরও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক থেকে নিজেদের দূরে রাখাই এখন প্রিন্সেস বিয়াট্রিচ ও ইউজিনির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?