clock ,

রেকর্ড ভেঙেছে প্রবাসী আয়, শ্রমবাজার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

রেকর্ড ভেঙেছে প্রবাসী আয়, শ্রমবাজার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

মার্চের ২৬ দিনেই রেমিট্যান্স আসার নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, মার্চ মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২৯৪ কোটি ৫০ লাখ বা দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি। সে হিসাবে একক একটি মাসে বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আহরণের মাইলফলক পেরিয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, রমজান ঈদকে কেন্দ্র করে সবসময়ই রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. আরিফ হোসেন খান জানান, চলতি মার্চের ২৫ ২৬ তারিখে মাত্র দুইদিনেই ১৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আর থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ২৯৪ কোটি ৫০ লাখ বা দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে চলতি মাসে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮২ দশমিক শতাংশ।


বিদ্যমান প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হলে চলতি বছর রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনন্য উচ্চতায় পৌঁছুবে বলে মনে করেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, বিদেশে হুন্ডির চাহিদা তৈরি হয় দেশ থেকে। বাংলাদেশিদের পাচারকৃত অর্থের বড় অংশ বিদেশে প্রধান শ্রমবাজারগুলো থেকে সংগ্রহ করা হয়। রেমিট্যান্সের বিদ্যমান প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে টাকা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর হতে হবে। টাকা পাচার বন্ধ হলে হুন্ডির তৎপরতাও কমে যাবে। প্রবাসী বাংলাদেশীরা বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে আরো বেশি উৎসাহিত হবেন। আর যে প্রবাসীরা অর্থনীতিতে এত বড় ভূমিকা রাখছেন, তাদের জন্যও সরকারের দিক থেকে সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে।

ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক অর্থনীতিবিদ . মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, ‘দেশে বিনিয়োগের ভালো কোনো ক্ষেত্র না থাকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থের সিংহভাগই ভোগে ব্যয় হচ্ছে। যেটুকু উদ্বৃত্ত থাকে সেটি দিয়েও বাড়ি নির্মাণ বা জমি কেনা হয়। দেশে যদি প্রবাসীদের বিনিয়োগের ভালো কোনো ক্ষেত্র থাকত, তাহলে রেমিট্যান্সের অর্থ দেশের অর্থনীতিতে আরো জোরালো ভূমিকা রাখতে পারত। প্রবাসীদের জন্য ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড আছে। কিন্তু বন্ডের বিষয়ে প্রবাসীদের মধ্যে তেমন কোনো প্রচারণা বা সচেতনতা নেই। যেসব প্রবাসীর কাছে বিনিয়োগের মতো সঞ্চয় আছে, তারা দেশে বিনিয়োগের কোনো খাত খুঁজে পান না। এখানে পুঁজিবাজার বলে তেমন কিছু অবশিষ্ট নেই। সরকার যদি প্রবাসীদের জন্য বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি করে দিতে পারত, তাহলে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট অনেকাংশেই কেটে যেত। তবে রেমিটেন্স বাড়লেও উদ্বেগ কমছে না শ্রমবাজারগুলো নিয়ে।

 

বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট কোটি ৭১ লাখ ৫২ হাজার ৫৬২ জন বাংলাদেশি বিদেশ গেছেন। এর মধ্যে শুধু সৌদি আরবে অভিবাসী হয়েছেন ৬৪ লাখ ৮১ হাজার ৯০২ জন বাংলাদেশি। অর্থাৎ দেশের মোট অভিবাসী শ্রমিকের ৩৭ দশমিক ৭৮ শতাংশই গেছেন সৌদি আরবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন সময়ে দেশে ফিরেও এসেছেন। তবে মুহূর্তে ঠিক কী পরিমাণ বাংলাদেশি সৌদি আরবে কর্মরত রয়েছেন, তার সঠিক পরিসংখ্যান বিএমইটি কাছেও নেই। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কর্মী গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। সেখানে পর্যন্ত জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে ২৬ লাখ ৫০ হাজার ৩৪২ জন। তৃতীয় সর্বোচ্চ জনশক্তি রপ্তানির দেশ ওমান, ১৮ লাখ ৮৪ হাজার ৮২৭ জন। কিন্তু রেমিট্যান্স আয়ের দিক থেকে রয়েছে নম্বরে অবস্থানে। চতুর্থ মালয়েশিয়া, পর্যন্ত জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ২১৯ জন। পঞ্চম সিঙ্গাপুর, পর্যন্ত জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে ১০ লাখ হাজার ৮২৫ জন। চলতি বছর কাতার গেছে ১৪ হাজার ৩৭ জন কর্মী। সেই জায়গায় গত বছরের প্রথম দুই মাসে কাতার গিয়েছিল ছয় হাজার ৭৭৯ জন কর্মী। চলতি বছর ইতালির বাজারেও কর্মী যাওয়া বেড়েছে। চলতি বছর প্রথম দুই মাসে ৫৫৭ জন কর্মী ইতালি গেছে। কিন্তু গত বছর প্রথম দুই মাসে গিয়েছিল ৪২ জন কর্মী।

 

কর্মী যাওয়া অর্ধেকে নেমেছে সৌদিআরবে

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগে বন্ধ হয়ে যায় ওমানের শ্রমবাজার। তার সাত মাস পর একই অভিযোগে ২০২৪ সালের ৩১ মে বন্ধ হয়ে যায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের প্রথম দুই মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়েছিল ১৮ হাজার ৪২ জন কর্মী। সেই জায়গায় চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে মাত্র এক হাজার ১৫০ জন কর্মী সংযুক্ত আরব আমিরাত গেছে। অর্থাৎ গত বছরের চেয়ে চলতি বছর ৯৩.৬২ শতাংশ কর্মী কম গেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বন্ধ না হলেও অনানুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা দেওয়া বন্ধ রেখেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার। আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ আছে ওমান মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। তার পরও এই দুই দেশে গত বছরের দুই মাসের চেয়ে চলতি বছরের দুই মাসে কর্মী কম গেছে। ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছিল সৌদি আরব। অভিবাসনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশি কর্মীদের পছন্দের এই তিনটি শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৌদি শ্রমবাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে যেখানে ৪৪ হাজার জন কর্মী সৌদি আরবে গিয়েছিলেন, সেখানে অক্টোবর মাস থেকে এই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। অক্টোবর, নভেম্বর এবং ডিসেম্বর এই তিন মাসে কর্মী প্রেরণের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৮৩ হাজার ৫৮২ জন, প্রায় একইরকম এবং সামান্য কমবেশী। কিন্তু, চলতি বছরের শুরু থেকেই এই চিত্রে পরিবর্তন আসে। পরিসংখ্যানগতভাবে বিভিন্ন শ্রমবাজারে যাওয়া মূল কর্মীর ৭৫.৪০ শতাংশই সৌদি আরব গেছে। কিন্তু জানুয়ারী মাসে কর্মী সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৭৬ হাজার ৬১৮ জনে, এবং ফেব্রুয়ারিতে তা আরও কমে ৪৪ হাজার ২৫৮ জনে পৌঁছেছে। এই আকস্মিক পতন রিক্রুটিং এজেন্সি এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় উভয়কেই চিন্তিত করে তুলেছে।

যদিও কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র সত্যায়ন জটিলতায় কর্মী পাঠানো কমছে বলে দাবি করেছে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। সৌদি শ্রমবাজার নিয়ে তৈরি জটিলতা দূর করতে গত ১১ মার্চ প্রবাসীকল্যাণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা . আসিফ নজরুলের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা) এর সদস্যরা। বায়রা সদস্যরা বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে ৮৫ শতাংশ কর্মী যান ছোট ছোট চাহিদাপত্রের মাধ্যমে। বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, গত ২২ ডিসেম্বর থেকে কর্মী যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু করে সরকার। এতে একক ভিসার সত্যায়ন করতে হবে। ২৪ জন কর্মী পর্যন্ত যত ভিসা হয় সেই ভিসাকে একক ভিসা বলা হয়। আর ২৫ জন থেকে শুরু করে এর বেশি যত ভিসা হয় সেই ভিসা হলো গ্রুপ ভিসা। আগে ২৪টি পর্যন্ত নিয়োগপত্রে দূতাবাসে সত্যায়ন প্রয়োজন ছিল না। নতুন নিয়মে বেড়েছে দীর্ঘসূত্রতা। সময়মতো কর্মী পাঠানো যাচ্ছে না। নিয়ম অব্যাহত থাকলে কর্মী পাঠানো আরও কমে যাবে। বায়রার নেতা খন্দকার আবু আশফাক বলেন, একটা-একটা করে সব নিয়োগপত্র সত্যায়ন করতে গেলে অনেক সময় লেগে যায়। সত্যায়নের প্রক্রিয়া আগের নিয়মে ফেরালে কর্মী পাঠানো সহজ হবে। ছাড়া মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের মতো এখানেও আবার যেন চক্র তৈরি না হয়, সেই অনুরোধ করেছেন তারা।

সৌদি আরবের এই শ্রমবাজারটি রয়েছে আরও দুসংবাদ। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর গত জানুয়ারি মাসে একটি অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে এখন সৌদি আরব থেকে সব রেমিট্যান্স সরাসরি আসে না। দুবাই হয়ে তারপর আসছে। এর কারণ হলো সৌদিতে অনিবন্ধিত বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি। অনেক নিয়োগকর্তাই ইকামা বা বিদেশি কর্মীর বসবাসের পারমিটের উচ্চ মূল্য দিতে নারাজ, যে কারণে আইনি বৈধতা ছাড়াই অবস্থান করতে হয় অনেক শ্রমিককে। বায়রা সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবে ৬০-৭০ শতাংশ বাংলাদেশি কর্মী গত তিন বছরে তাদের ইকামা পাননি। তাই আইনিভাবে স্বীকৃতি ছাড়া, এই শ্রমিকরা কম উপার্জন করে এবং আনুষ্ঠানিক বা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠাতে পারেন না। এর পরিবর্তে, তারা হুন্ডির দিকে ঝোঁকে, অর্থ প্রেরণের এই অবৈধ বা অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থাই এসব প্রবাসী আয়কে আনুষ্ঠানিক হিসাবের বাইরে রাখছে। গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলভুক্ত দেশগুলো বা জিসিসিভিত্তিক একটি অধিকার গোষ্ঠী মাইগ্রেন্ট-রাইটস.অর্গ এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুন্ডি ব্যবহার করে বেশিরভাগ শ্রমিক অনিবন্ধিত। কিছু পরিবারও ব্যাংকের চেয়ে হুন্ডিতে টাকা পেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, কারণ তারা এই প্রক্রিয়াকে সহজ মনে করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা এবং বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরব থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অর্থ পাচারের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা এবং এরপরে তা রেমিট্যান্স হিসাবে বাংলাদেশে আসার বিষয়টি রেমিট্যান্সের এই অসামঞ্জস্যের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, একটি প্রতারক সিন্ডিকেট রেমিট্যান্সে কারচুপি করছে। একটা গোষ্ঠী আগে সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স কিনে মজুত করছে, এরপর বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর কাছে চড়া দরে বিক্রি করছে। এতে দেশের ডলার বাজারকে বাইরে থেকে অস্থিতিশীল করা হচ্ছে। এদিকে বৈদেশিক লেনদেনের দায় পরিশোধের জন্য অনেক সময় ব্যাংকগুলোও ডলারের জন্য প্রিমিয়াম মূল্য দিতে রাজি হচ্ছে, যে কারণে দেশে ডলারের দরও বেড়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাইয়ে সৌদি থেকে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩৩ কোটি ১২ লাখ ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ৫০৭ কোটি ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৪৫৪ কোটি ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশটি থেকে এসেছে ২৯৬ কোটি ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সৌদি থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ২৭৪ কোটি ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ২৩১ কোটি ডলার। সৌদি আরব থেকে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে আসা রেমিট্যান্সে পতনের সঙ্গে শুধু অনিবন্ধিত শ্রমিক বা অবৈধ অর্থ স্থানান্তর জড়িত নয়। এর সঙ্গে অন্যান্য বিষয়ও কাজ করছে বলে জানান খাত সংশ্লিষ্টরা। যেমন বাংলাদেশে ডলারের সংকট থাকায় কিছু বড় প্রতিষ্ঠান বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহের জন্য হুন্ডি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হতে বাধ্য হয়েছে। হজ এবং ওমরাহ জন্য বিপুল অর্থ প্রেরণও হুন্ডি চ্যানেলের ব্যবহার বাড়াতে ভূমিকা রাখে। সবমিলিয়ে এসব সংখ্যা রেমিট্যান্সে যোগ হচ্ছে না, কিন্তু বাস্তবে তার প্রভাব পড়ছে।

বায়রার প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট নোমান চৌধুরী বলেন, গত তিন থেকে চার বছরে সৌদি আরবে যাওয়া ৬০-৭০ শতাংশ বাংলাদেশি ইকামা পেতে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। আমি নামি সৌদি সংস্থাগুলোতে কর্মী পাঠাই, কিন্তু তারপরেও এদের মধ্যে কমপক্ষে ১০ শতাংশ ইকামা নিয়ে সমস্যায় পড়েন। কারণে তারা হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বাধ্য হয়। প্রতি বছর নবায়ন করতে হয় ইকামা, যার ফি দিতে হয় নিয়োগকারীকেই। সাধারণত, কর্মসংস্থান ভিসায় সৌদি আরবে যাওয়া কর্মীরা তিন মাসের অস্থায়ী অনুমতি পান। নির্মাণ, ক্লিনিং এবং কৃষির মতো -শিল্প, স্বল্প মজুরি খাতে কর্মীদের জন্য ১১ হাজার রিয়াল ইকামা ফি দিয়ে নিয়োগকর্তাদের এই সময়ের মধ্যে তাদের কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট সুরক্ষিত করতে হয়। কিন্তু এটি করা নাহলে শ্রমিকরা অনিবন্ধিত হয়ে পড়ে। নিয়োগকর্তারা বর্তমানে প্রতি শ্রমিকের ইকামার জন্য সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়কে বার্ষিক ,৬০০ রিয়াল দেন। একইসঙ্গে বিমা অন্যান্য হিসাবে তাদের আরও ৬০০ রিয়াল দিতে হয় সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। যে কারণে শ্রমিক প্রতি ইকামা বাবদ বছরে তাদের খরচ দাঁড়ায় ১১ হাজার রিয়াল। জনশক্তি, কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যমতে, বিভিন্ন গন্তব্যে গিয়ে চাকরির ক্ষেত্রে  সমস্যায় পড়া বাংলাদেশি অভিবাসীরা গত এক বছরে প্রায় হাজার ৭৫৫টি অভিযোগ জমা দিয়েছেন, আগের বছরের চেয়ে যা ১৮৪ শতাংশ বেড়েছে। খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব অভিযোগের প্রায় ৮০ শতাংশই করেছেন সৌদিতে কর্মরতরা। সৌদি আরবে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীরা ওয়ার্ক পারমিট, চাকরির নিরাপত্তা, বিলম্বিত বেতন এবং মজুরি চুরি নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। বিএমইটি সূত্রগুলি বলছে, ৫০ শতাংশ অভিযোগই ইকামা সমস্যা সম্পর্কিত, কারণ অনেক নিয়োগকারী দেশটিতে তাদের কর্মীদের বৈধভাবে অবস্থানের জন্য অনুমতি নিচ্ছেন না। এর প্রতিক্রিয়ায়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রতারণামূলক আচরণের জন্য ২৪টি সৌদি কোম্পানিকে কালো তালিকাভুক্ত করে এবং বাংলাদেশি সংস্থার মাধ্যমে তাদের কর্মী নিয়োগ নিষিদ্ধ করে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সৌদি আরব ইকামা নবায়নের ফি, এবং নবায়ন না হওয়ার কারণে চাকরি হারানোর বিষয়ে আলোচনা করেছে।

সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি, এক্সচেঞ্জ হাউস, ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই বলছে, সৌদি আরবে রেকর্ডসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক অভিবাসী হলেও তাদের উল্লেখযোগ্য অংশ এখন বেকার। অনেকে চাকরি পেলেও বেতন-ভাতা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। জীবনধারণের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রভাবে মাস শেষে অনেক বাংলাদেশি শ্রমিকের হাতে দেশে পাঠানোর মতো উদ্বৃত্ত অর্থ থাকছে না। আবার সৌদি আরবে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশের আয় এখন হুন্ডি কারবারিদের হাতে চলে যাচ্ছে। ব্যাংকিং চ্যানেলের তুলনায় হুন্ডিতে ডলারের মূল্য বেশি পাওয়ায় প্রবাসীরা হুন্ডিতে টাকা পাঠাতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। বাংলাদেশি কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সৌদি আরবে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ঘিরে হুন্ডির জমজমাট ব্যবসা গড়ে তুলেছেন বলেও জানা গেছে।

কঠোর আইনের দেশ সৌদি আরবেও অপহরণ বাণিজ্য

এতদিন পর্যন্ত ইউরোপ গমনেচ্ছুরা বিভিন্ন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অপহরণ বাণিজ্যের শিকার হলেও সম্প্রতি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে কঠোর আইনের দেশ সৌদি আরবে। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সৌদি আরবে অপহরণ চক্রের হাতে জিম্মি ছিলেন প্রবাসী মনিরুল ইসলাম।

তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ক্লাবহাট এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ। বিকাশে মুক্তিপণের টাকা নেয়ার সূত্র ধরে অপরাধীদের শনাক্ত করা হয়।

জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে উন্নত জীবনের আশায় স্থানীয় দালাল জহরুল ইসলামের মাধ্যমে লাখ টাকা দিয়ে সৌদি আরব যান মনিরুল ইসলাম। ভালো কর্ম-পরিবেশ উপযুক্ত বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে মনিরুলকে একটি চক্রের হাতে তুলে দেয়। তারা মনিরুলকে আটকে রাখে এবং অমানুষিক নির্যাতন চালায়। এরপর ইমো হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মনিরুলের স্ত্রী মোসা.আরজিনার সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা। মনিরুলকে নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে দেশে থাকা তার পরিবারের কাছে চক্রটির দেশে অবস্থান করা সদস্যদের মাধ্যমে মুক্তিপণ হিসেবে বিভিন্ন বিকাশ নম্বর নগদে ২১ লাখ টাকা আদায় করে। মুক্তিপণের টাকা পাওয়ার পর অপহরণকারী চক্রটি তাকে সৌদি আরবের একটি রাস্তায় ছেড়ে চলে যায়। পাচারকারী, দেশে-বিদেশে থাকা অপহরণ চক্র সবাই চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আসামিদের দ্বারা শোষণ, নিপীড়ন এবং সার্ভিচিউডের দ্বারা অতিষ্ঠ হয়ে মনিরুল অপহরণকারীদের কাছে তার স্বাধীন জীবন প্রার্থনায় দাসত্ব জীবন থেকে মুক্তি চান।  সময় মুক্তিপণ হিসেবে তার কাছে ২৫ লাখ টাকা দাবি করে তারা। মনিরুল ইসলামের জীবন বাঁচাতে কয়েক দফায় মানব পাচার অপহরণ চক্রের দেশি সদস্যদের হাতে নগদ বিকাশের মুক্তিপণের টাকা দেয় তার পরিবার।

অপহৃত মনিরুল ইসলামের স্ত্রী আরজিনা বেগম বলেন, মামলার প্রধান আসামি জহরুল ইসলাম তাদের আত্মীয়। এই জহরুল ভালো বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে সৌদি আরব নিয়ে যায় মনিরুলকে। সেখানে মো. জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণ তত্ত্বাবধানে একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে কাজ দেয়া হয়। কিন্তু মো. জাহাঙ্গীর নামের ওই ব্যক্তি তার দলবল নিয়ে মনিরুলকে শ্রমদাস বানিয়ে রেখেছে। একপর্যায়ে তাকে এক বন্দিশালায় নিয়ে যায় তারা। নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে হোয়াটসঅ্যাপ, ইমোতে তাদের কাছে পাঠিয়ে দফায় দফায় মুক্তিপণ আদায় করে। আরজিনা আরও বলেন, তার স্বামীর কালো কাপড়ে চোখ বাঁধা, দুই হাত পা বেঁধে রাখা ছবি পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে চক্রটি। আগুন দিয়ে পোড়ানোর মতো নির্মম নির্যাতন চিৎকারের শব্দ শুনানো হয় তাদের। বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. মতিউর রহমান বলেন, সৌদি আরবে মনিরুল ইসলাম নামের এক বাংলাদেশিকে অপহরণ করে একটি চক্র। তাকে আটকে রেখে দেশে থাকা স্ত্রী, শ্বশুর ভাইয়ের কাছে ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। কয়েক দফায় বিকাশ নগদে ২১ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ করেন তার পরিবার। ঘটনায় মানব পাচার মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।  তদন্ত চলছে।

 সৌদি আরবে গিয়ে কেন নারী গৃহকর্মীরা লাশ হয়ে ফিরছেন


নিউইয়র্ক টাইমস গত ১৯ মার্চ সৌদি আরবের নারী গৃহকর্মীদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায় বাংলাদেশের নারী কর্মীদের মতো কেনিয়া উগান্ডার নারী গৃহকর্মীরা সেখানে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। কেনিয়া সরকারের উৎসাহে এবং নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে দলবেঁধে বিদেশযাত্রা করলেও অনেক নারী শ্রমিক সৌদি আরব থেকে ফিরে আসেন স্বপ্ন হারানোর রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে। তাঁদের কেউ হয়তো ঠিকঠাক বেতন পাননি। কেউবা দিনের পর দিন অনাহারে থেকেছেন। কাউকে মারধর করা হয়েছে। আবার কেউ যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এমন অনেকেই আছেন, যাঁরা কফিনবন্দী হয়ে দেশে ফিরেছেন। বিশ্বের অনেক দেশ সৌদি আরবের কাছ থেকে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই দেশটিতে শ্রমিক পাঠায়। নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, বাংলাদেশের মতো কেনিয়া উগান্ডা সেই সুযোগ পায়নি। সৌদি আরবে গত বছরে কেনিয়ার অন্তত ২৭৪ জন শ্রমিক মারা গেছেন। বেশির ভাগই নারী। এর মধ্যে ২০২৪ সালে মারা গেছেন ৫৫ জন। সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনগুলো অস্পষ্ট আর পরস্পরবিরোধী। বলা হয়েছে, কেউ হয়তো ট্রমায় মারা গেছেন। কেউবা পুড়ে কিংবা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। অর্থাৎ তাঁদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। একজন নারীর মৃত্যুর কারণ লেখা হয়েছে, ‘ ব্রেইন ডেড শুধু কেনিয়া নয়, আফ্রিকার আরেক দেশ উগান্ডার অনেক নারী শ্রমিক সৌদি আরবে মারা গেছেন। যদিও উগান্ডার সরকার সেই সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

কেনিয়া উগান্ডার প্রায় লাখ পাঁচেক শ্রমিক এখন সৌদি আরবে কর্মরত রয়েছেন। এটা সৌদি আরবের সরকারি হিসাব। তাঁদের বেশির ভাগই নারী। তাঁরা মূলত গৃহকর্মী হিসেবে রান্না, পরিচ্ছন্নতা শিশুদের দেখাশোনার কাজ করেন। সাংবাদিক অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে শ্রমিক নির্যাতনের কথা বলে আসছে। আর জন্য দায়ী দেশটির পুরোনো শ্রম আইন।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কেনিয়া, উগান্ডা আর সৌদি আরবে ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হলেও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা রয়েছে। সৌদি আরবের রাজপরিবারের সদস্যরা গৃহকর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান বিনিয়োগকারী। কেনিয়া উগান্ডায় রাজনীতিবিদ আর তাঁদের পরিবারের সদস্যরা শ্রমিক পাঠানোর প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক।

সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত উগান্ডার চারজন নারী গত মাসে একটি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানে ভিডিও পাঠান। তাঁরা বলেন, সৌদি আরবে মাস ছয়েক ধরে চারজনই বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন। ভিডিওতে এক নারী বলেন, ‘ইচ্ছার বিরুদ্ধে আটক থাকতে থাকতে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।ওই নারী আরও জানান, তাঁরা এমন একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সৌদি আরবে গিয়েছেন, যেটার মালিক উগান্ডার ক্ষমতাসীন দলের একজন নেতা। পরে উগান্ডার সংবাদমাধ্যম জানতে পারে, ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক দেশটির প্রেসিডেন্টের ভাই।

সৌদি আরবে কাজ করা ৯০ জনের বেশি শ্রমিক এবং মৃত শ্রমিকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছে নিউইয়র্ক টাইমস। দিনের পর দিন একই অবস্থা চলে আসার আরেকটি কারণ উঠে এসেছে। তা হলো ক্ষমতাবানেরা বিদ্যমান ব্যবস্থা থেকে লাভবান হচ্ছেন। এসব সাক্ষাৎকার প্রয়োজনীয় নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, পুরো প্রক্রিয়াটিতে নারী শ্রমিকদেরগৃহস্থালি পণ্যের মতোবিবেচনা করা হয়। কেনাবেচার পর ছুঁড়ে ফেলা যেন তাঁদের নিয়তি। বেশকিছু কোম্পানি তাদের ওয়েবসাইটে নারী শ্রমিকদের ছবির পাশে অনলাইনে কেনার জন্য যেমন থাকে, সেই রকমঅ্যাড টু কার্টঅপশন যুক্ত করেছে। এমনকিকেনিয়ার গৃহকর্মী বিক্রির জন্যএকটি বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরবের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাইক গোল্ডস্টেইন বলেন, বিদেশি শ্রমিকদের সুরক্ষায় সৌদি সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। গৃহকর্মীদের যেকোনো ধরনের শোষণ কিংবা নির্যাতন সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য। ধরনের আচরণের অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

মাইক গোল্ডস্টেইন আরও বলেন, সরকার নির্যাতনের ঘটনাগুলোয় জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়েছে। শ্রমিকদের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। কাজের সময় দৈনিক ১০ ঘণ্টায় সীমিত করা হয়েছে। সপ্তাহে এক দিন ছুটির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, সৌদি সরকার অনলাইনে গৃহকর্মীদের বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। যারা বারবার শ্রম আইন লঙ্ঘন করছে, একদিন তাদেরও শনাক্ত করা হবে। শ্রমিকদের নির্যাতন মজুরি বকেয়া রাখা কিংবা চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং সরাসরি অভিযোগ জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াসহ একাধিক উপায় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মাইক গোল্ডস্টেইন।

নতুন অনলাইন মাধ্যম চায় বিএমইটি

বিদেশগামীদের জন্য নতুন অনলাইন মাধ্যম চালু করতে চায় জনশক্তি কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) তবে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি রয়েছে শ্রমবাজার সংশ্লিষ্টদের। অন্যদিকে সৌদি আরবের শ্রমবাজারের প্রতারণা ঠেকাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নতুন উদ্যোগে অনিশ্চয়তায় রিক্রুটিং এজেন্সি ব্যবসায়ীরা। এতে একক ভিসার সত্যায়নে ঝুলছে কর্মীর ভবিষ্যৎ। এই পরিস্থিতির মধ্যেই গত কয়েক বছর ধরে অনলাইনে বিদেশযাত্রার প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছেআমি প্রবাসী অ্যাপনামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। সঙ্গে নতুন আরও একটি অনলাইনমাধ্যম চালুর কথাও জানিয়েছে বিএমইটি। এমনটা হলে বিদেশ যাওয়ার কার্যক্রম সম্পাদনে গতি আসবে বলে মনে করেন আবেদনকারীরা। তাদের ভাষ্য, অনলাইনে আবেদন সহজ, কাজগুলোও তাড়াতাড়ি হয়ে যায়। তবে অফলাইনে বিলম্ব হয়। যারা অনলাইন সম্পর্কে ধারণা রাখেন, তারা নিজেদের কাজ নিজেরাই করতে পারেন।

তবে বিদেশগামীদের ভোগান্তি আর সৌদি আরবের শ্রমবাজারের নৈরাজ্যে সরকারের দায় দেখছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান। তার মতে, সরকার নিজেরাও কোনো প্রযুক্তি আনতে পারছে না, আবার অন্যদের যে প্রযুক্তিগুলো ছিল সেগুলোও ব্যবহার করার বদলে যখন যে সরকার আসে তারা নতুন করে প্রযুক্তি তৈরি করতে চায়। এর ফলে সুশাসনে ঘাটতি তৈরি হয়।

 

 

You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?

আমাদের অনুসরণ করুন

জনপ্রিয় বিভাগ

সাম্প্রতিক মন্তব্য