clock ,

ছয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদেশি নাগরিকত্ব ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ

ছয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদেশি নাগরিকত্ব ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তত ছয়জন প্রার্থী বিদেশি নাগরিকত্ব বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে দুইজন প্রার্থী যুক্তরাজ্যের নাগরিক হয়েও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং বাকি চারজন বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নিজস্ব অনুসন্ধানে এসব তথ্য পেয়েছে। তবে সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেনি।

নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব অনিয়মের তথ্য তুলে ধরে টিআইবি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সংস্থাটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবির পরিচালক (আউটরিচ কমিউনিকেশন) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। সময় উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক . ইফতেখারুজ্জামান।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি জানায়, প্রার্থীদের হলফনামায় দেওয়া তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অন্তত চারজন প্রার্থী বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন, যদিও তাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এক প্রার্থী হলফনামায় বিদেশে তিনটি ফ্ল্যাটের মালিকানা থাকার কথা উল্লেখ করলেও অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রকৃত সংখ্যা কমপক্ষে তিনগুণ। ওই প্রার্থীর বিদেশে সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩৫ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টিআইবি নাম প্রকাশ না করলেও, হলফনামায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনটি ফ্ল্যাট থাকার তথ্য দিয়েছেন সম্প্রতি বিএনপিতে ফিরে আসা স্বতন্ত্র প্রার্থী এস কে একরামুজ্জামান। তিনি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া- আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং সে সময় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন। পরে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তবে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

টিআইবির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, আরেকজন প্রার্থী বিদেশে নিজস্ব মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য গোপন করেছেন। অনুসন্ধানে ওই প্রার্থীর নামে মোট ১১টি প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যার মধ্যে আটটি সক্রিয় বাণিজ্যিক কার্যক্রমে জড়িত।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২১ জন প্রার্থী হলফনামায় বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘোষণা দিলেও অন্তত দুইজন প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকা সত্ত্বেও তা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। টিআইবির তথ্যানুযায়ী, তারা যুক্তরাজ্যের নাগরিক ছিলেন।

ছাড়া একজন প্রার্থীর নির্ভরশীলের নামে ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যে প্রায় ১৪ লাখ পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ২১০ কোটি টাকা) মূল্যের একটি বাড়ি কেনার তথ্য পাওয়া গেলেও তা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সম্পদ কেনার ক্ষেত্রে শেল কোম্পানির ব্যবহার করা হয়েছিল এবং কোম্পানিটির নিবন্ধন দেখানো হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে।

আরেকজন প্রার্থী নিজের নামে বিদেশি সম্পদের তথ্য না দিলেও তার স্ত্রীর নামে দুবাইয়ে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে বলে টিআইবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

টিআইবির অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, একজন প্রার্থীর করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত একটি দেশে কোম্পানির নিবন্ধন রয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট তথ্যের একটি অংশ আগেই প্রকাশিত ছিল, তা সত্ত্বেও প্রার্থী হলফনামায় ওই তথ্য উল্লেখ করেননি।

উল্লেখ্য, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে টিআইবি জানিয়েছিল, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন মন্ত্রীর যুক্তরাজ্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিপুলসংখ্যক সম্পদ রয়েছে। পরে সমকালের অনুসন্ধানে ওই মন্ত্রীর পরিচয় প্রকাশ পায়তিনি ছিলেন সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। জানা যায়, যুক্তরাজ্যে তার মালিকানায় ২১১টি সম্পদ রয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, সাবেক এই মন্ত্রীর নামে বিভিন্ন দেশে সাত শতাধিক বাড়ি সম্পদের অস্তিত্ব রয়েছে।

You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?

সম্পর্কিত খবর

আমাদের অনুসরণ করুন

জনপ্রিয় বিভাগ

সাম্প্রতিক মন্তব্য