বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সব

Singapore
Corona Update

Confirmed Recovered Death
57,639 57,291 27

Bangladesh
Corona Update

Confirmed Recovered Death
353,844 262,953 5,044

হৃদয় ছোঁয়া ভালোবাসা

মোহাম্মদ রহমত আলী | ০৭ জুন ২০২০ | ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
হৃদয় ছোঁয়া ভালোবাসা ফাইল ছবি

(পূর্বে প্রকাশের পর)

এটাই আপনার বেশি দরকার।
কেন?
মেয়েরা দিনে সবচেয়ে বেশি আয়নায় তাকিয়ে চেহারা দেখে আরকি।
আচ্ছা। আজ তাহলে আসি।
হুম.. চা?
না আরেক দিন খাব!
পরেরদিন নিতু অপেক্ষা করছে।
কিন্তু আজ একটা খারাপ খবর আছে। সেটা হলো বারবার সে আয়না দেখতে গিয়ে ভেঙ্গে ফেলেছে। সেজন্য ভিষণ মন খারাপ।
ভাইয়া।
আয়নাটা ভেঙ্গে গেছে?
কথা শুনে নিতুর চোখ দুটি বড় হয়ে গেলো। হুম। কিন্তু আপনি জানলেন কিভাবে?
চোখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে মন খারাপ। সেটা আয়নার জন্য।
আপনি নিশ্চয় দুই নম্বর আয়না দিয়েছেন।
আচ্ছা চলেন আজ আরেকটা কিনে দিবো কিন্তু আজ আর আয়না নয় দেব চুড়ি।
চুড়ি কেন?
আচ্ছা তাহলে দেবোনা।
বাই যাই কেমন?
না না শুনুন…চলেন না।
এমনিতে আমারও চুড়ি খুব পছন্দ কিন্তু পরা হয় খুব কম।
আচ্ছা তাহলে চলেন আমিও আপনাকে চশমাও কিনে দেই। আপনার ঘোড়ার ডিমের চোখ আর মানুষকে দেখানো যাবে না।
কেনো কেনো?
অধিকার।
মানে?
না মানে কিছু না। চলেন তো!
নিতু শপিং মলের দোকান থেকে কিছু চুড়ি আর একটা কালো চশমা কিনলো।
নিতু ভাবছে আল্লাহ যা করে ভালোই করে।
ধন্যবাদ ভাইয়া।
হুম বাসায় যান এখন।
আর হ্যাঁ বাইরে বের হলে চশমাটা কিন্তু অলয়েজ পরে থাকবেন।
ঠিক আছে?
না। শুধু আপনার সামনে চশমা থাকবে না। আমার ঘোড়ার ডিমের চোখ শুধু আপনাকেই দেখাতে হবে।
চালাক হয়ে যাচ্ছেন দিনদিন।
এতো চালাক হওয়া ভালো না বুঝলেন সাহেব।
আচ্ছা এখন বাসায় যান।
ঠিক আছে।
আল্লাহ হাফেজ।
বাসায় চলে গেলো নিতু।
আর এদিকে বেচারা রহমত মনে মনে হেসে চলছে। ঘোড়ার ডিমের মতো চোখ অন্য কেউ দেখবে কেনো। কিন্তু কিছুই করার নেই। নিজের ভালোলাগা-ভালোবাসা কুরবান না করা ছাড়া তার উপায় নেই।
নিতুর বাবা চাইলে রহমতকে কেন, সে যে মহল্লায় থাকে সে মহল্লা পুরোটা দিনে দশবার কিনতে পারে। শিল্পপতি, কোটি কোটি টাকার মালিক হলেও শুনেছে মানুষ হিসেবে নিতুর বাবা বেশ ভালই। কিন্তু ভালো হলেই কি। নিতুও সহজ সাধারণই। তবে ওর ঘনঘন শপিং করার অভ্যাসটা রয়েই গেছে।
একদিন রহমত এর বাসায় যাওয়ার জন্য বায়না ধরলো। সবসময়ই মা, বাবার কথা রহমত নিতুকে বলে,তাই নিতু আংকেল আন্টিকে দেখতে চাইছে। শেষ পর্যন্ত রহমত, নিতুকে না নিয়ে গিয়ে পারলো না। গ্রামের বাড়ির মতো। তবে এখানটা শহরই।
বড় একটি বাজারের পরপরই গ্রামটার শুরু আবার গ্রামের দিক দিয়ে শেষ। সবমিলিয়ে বলা যায় বাড়িটা মাঝখানে। রহমত আর তার বাবা মোহাম্মদ আসাদ সাহেব অনেকটাই ফ্রি। মায়ের থেকে বাবার সাথে খাতির খুব বেশি। রহমত এর মা গৃহিণী।
বাবা শেয়ার বাজারে লস খেয়ে এখন ছোটখাটো একটা ব্যবসা নিয়ে আছে। বেশ ভালোই চলছে তাদের সংসার। দুই ভাই এক রুমে থাকে। এইদিকে নিতু বাড়িতে ঢুকেই রহমত এর মায়ের সাথে গল্প জুড়ে দিল।
রহমত এর ছোট ভাই খুব বেশি পাকনা। এজন্য সবাই বড় দাদা বলেই ডাকে। এলাকায় এই নামেই সে বেশ পরিচিত।
সে বাসায় ছিলোনা। বেড়ানো শেষে রহমত নিতুকে বাসার পথে এগিয়ে দেয়।
নিতুর জন্মদিন। এদিন তার বাবা বিয়ের ঘোষণা দিবেন, রহমত ব্যাপারটা জানতে পারে কোন একভাবে। তাই রহমত মাস শেষে বেতনের টাকা থেকে সাত হাজার টাকা দিয়ে দামী একটা লাল বেনারসি শাড়ী কিনলো।
পার্টিতে নিতুর বাবার বন্ধুরা, নিতুর বন্ধুরাও উপস্থিত হয়েছে। রহমতও উপস্থিত।
নিতু খুব এক্সাইটেড ছিলো যে কখন রহমত এর গিফটের প্যাকেটটা খুলবে। কিন্তু বাবার বিয়ের অ্যানাউন্সিং শুনে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো নিতুর। সে এক দৌড়ে মায়ের কাছে গিয়ে কান্না করছে। রাতে একসময় গিফট বক্স খুলে রহমতের দেয়া লাল বেনারসি শাড়িটা দেখে আরো বেশি কান্না পেল। কান্নারত অবস্থায় ফোন দিলো রহমতকে।
রহমতও নিজের রুমে শুয়ে চুপিসারে কান্না করছে। চোখ দিয়ে পানি পড়লেও সমস্যা। মা জিজ্ঞেস করলে কি উত্তর দিবে?
লালা বেনারসি কেনো?
আমার বিয়েতে আপনি খুব খুশি তাই না? আপনাকে কেউ আর জ্বালাতন করবে না।
কি বলেন? বিয়ে তো আরো দুই বছর পর।
এখনই কান্না করছেন? বিয়ের দিনের জন্য কিছু কান্না বাকি রাখেন।
সবসময় ফান ভালো লাগে না।
আর হ্যাঁ বিয়ে যেহেতু আরো দুই বছর পর তাহলে আজ শাড়ি দিলেন কেন?
দুবছর পর আমি কোথায় থাকি কে জানে এজন্য আরকি।
ফোন কেটে দিলো নিতু।
রহমত বাসা থেকে দূরে কোথাও যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো। বাসায় থাকলে প্রতিদিনই নিতুর সাথে দেখা হবে আর কথা হবে। এতে আরো মায়া বেড়ে যাবে। কিন্তু পারলো না। ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা শেষ করতে আরো কয়েকদিন বাকি আছে।

-চলমান

Facebook Comments

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০