মঙ্গলবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

সব

Singapore
Corona Update

Confirmed Recovered Death
59,879 59,746 29

Bangladesh
Corona Update

Confirmed Recovered Death
543,717 492,059 8,356

আমেরিকার কি করুণ বিপর্যয়

এম আর ফারজানা: | ২৯ এপ্রিল ২০২০ | ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
আমেরিকার কি করুণ বিপর্যয়

মানুষের জীবন বিচিত্র। আমরা কেউ জানি না আগামিতে কি ঘটতে যাচ্ছে। যে উন্নত জীবনের আসায় মানুষ পাড়ি জমিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে সেই তারা এখন আফসোস করছে কেন এলাম। কারণ অনেকের পরিবার নিজ দেশেই রয়ে গেছে। একা থেকেছে দীর্ঘদিন। ভেবেছে ভবিষ্যতে নিয়ে আসবে। কিন্তু কে জানত এমন নাজুক সময় আসবে।

আমেরিকায় বারো রকম মানুষের বসবাস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ এ দেশে বাস করে। কেউ ইমিগ্রেন্ট, কেউ ননইমিগ্রেন্ট। এ দেশে আসার উদ্দেশ্য একটাই উন্নত জীবনযাপন করা। মানুষের এ ভাবনা মিথ্যে নয়। এতদিন পর্যন্ত সেভাবেই চলে আসছিল। বর্তমান এমন পরিস্থিতি আসবে তা কেউ কল্পনা করেনি। গত এক শতাব্দিতে আমেরিকার এমন নাজুক পরিস্থিতি হয়নি। আমেরিকার প্রতিটি স্টেটেই করোনাভাইরাস থাবা বসিয়েছে। মানুষ ঘরবন্দি। ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ।

এক অস্থির জীবনযাপন করছে মানুষ। বলা হচ্ছে এই এপ্রিল মাসেই আক্রান্ত এবং মৃত্যুর গ্রাফ উপরের দিকেই থাকবে। অর্থনীতি সচল রাখতে বন্ধ সবকিছু খুলে দেয়ার কথা ভাবছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে তার সাথে স্টেটের মেয়র, গভর্নর এক মত নয়। তারা বলছেন মানুষের জীবন যেখানে হুমকির মুখে সেখানে এই সময়ে সবকিছু বন্ধ থাকাই বাঞ্ছনীয়।

প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস পাল্টে দিয়েছে আমেরিকার চিত্র। প্রতিদিন বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। গত একদিনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দু হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। যা বিশ্বে রেকর্ড। বিশেষ করে নিউ ইয়র্কে। অন্য স্টেটের তুলনায় নিউ ইয়র্কে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। প্রতিদিন শত শত লাশ জমা হচ্ছে হিমাগারে। হিমশিম খাচ্ছ সেখানকার দায়িত্বরত স্টাফরা। এত বেশি লাশ যে এখন গণকবর দিতে হচ্ছে।

পোটার্স ফিল্ডের হার্ট আইল্যান্ডে বিশাল গর্ত খনন করে সেখানে সমাহিত করা হচ্ছে। অনেকদিন থেকেই হার্ট আইল্যান্ডে বেওয়ারিশ লাশ সমাহিত করা হয়। অনেক পরিবার ইচ্ছে থাকা সত্বেও লাশ নিতে আসে না অর্থের অভাবে। লাশ দাফন, ফিউনারেল, কবরের জায়গা, সব মিলিয়ে চার থেকে পাঁচ হাজার ডলারের মত খরচ হয়। অনেক ফ্যামিলির সে সাধ্য নেই। ফলে ইচ্ছে থাকা সত্তে¡ও লাশ আইডেন্টিফাই করতে যায় না।

মৃত্যুর পর আপনজনের লাশ ছুঁয়ে দেখবে সে সুযোগও নাই। এ মুহূর্তে আমেরিকা শুধু ভাইরাসের আক্রান্তের দিক থেকে নয়, মৃত্যুর হারের দিক থেকেও এগিয়ে গেছে অন্য দেশ থেকে। আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৩২ হাজার ৮৭৯, মারা গেছেন ২০ হাজার ৫৭৭ জন, সুস্থ হয়েছেন ৩০ হাজার ৪৫৩ জন।

আমেরিকান সরকার জনগণকে প্রণোদনা দিচ্ছে করোনাভাইরাসের কারণে। ইতিমধ্যে অনেকে কর্মহীন হয়ে গেছে। সরকার বাৎসরিক আয় অনুযায়ী জনপ্রতি ১২০০ ডলার ও বাচ্চার বয়স ১৭ নীচে হলে ৫০০ ডলার করে দেবে। কিন্তু এই সাহায্য তো সাময়িক। নিউইয়র্কে বাড়ির লোন স্থগিত করেছে কয়েকমাসের জন্য। আপাতত লোন না দিলেও চলবে। কিন্তু সামনে তো দিতে হবে। অনেক ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি দু এক মাসের বিল দিতে দেরি হলে লেট ফি নিবে না এমন বলেছে।

কিন্তু তাতেও কি রক্ষা হবে? ইতিমধ্যেই আনএমপ্লয়মেন্ট ৬.৬ মিলিয়ন মানুষ বেকার ভাতার জন্য আবেদন করেছে।
করোনাভাইরাসের কারণে অফিস, দোকান, মল সব বন্ধ। শুধু ইমারজেন্সির জন্য ওষুধের দোকান খোলা। ফলে প্রভাব পড়েছে অর্থনীতির উপর। অর্থনীতির সূচক দ্রæতই নীচের দিকে নামছে। ধস নেমেছে শেয়ার বাজারে। এর মধ্যে বিভিন্ন কোম্পানি তাদের ইন্স্যুরেন্স ক্যান্সেল করেছে। বলেছে, যতদিন কোম্পানি বন্ধ থাকে ইন্স্যুরেন্সও বন্ধ। আমার অফিসেও একি অবস্থা।

আমি আহামরি কোন জব করি না। কিন্তু আমার জবেরও কোন নিশ্চয়তা নাই। আসলে সামনে অপেক্ষা করছে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, যেন এ এক অন্য আমেরিকা। ইতিমধ্যে নিউইয়র্ক সিটির শিক্ষাখাতে বাজেট কমিয়ে দিয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে ২৬৪ মিলিয়ন ডলার বাজেট কর্তন করছে। আর্থিক সমস্যার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে তাই এ সিদ্ধান্ত।

মানুষের জীবন বিচিত্র। আমরা কেউ জানি না আগামিতে কি ঘটতে যাচ্ছে। যে উন্নত জীবনের আসায় মানুষ পাড়ি জমিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে সেই তারা এখন আফসোস করছে কেন এলাম। কারণ অনেকের পরিবার নিজ দেশেই রয়ে গেছে। একা থেকেছে দীর্ঘদিন। ভেবেছে ভবিষ্যতে নিয়ে আসবে। কিন্তু কে জানত এমন নাজুক সময় আসবে। প্রসেসিং চলছে পরিবারকে আনার।

কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এখন ইমিগ্রেন্ট কাজও বন্ধ হয়ে গেছে। বিভিন্ন দেশের আমেরিকান দূতাবাসের লোকজন ফিরে এসেছে আমেরিকা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হয়তো ফিরে যাবে। ততদিনে অর্থনীতির একটা ধাক্কা এসে লাগবে।

আমেরিকার মেরুদন্ড হলো অর্থনীতি। কথায় আছে অর্থের চাকা কখনোই অচল হয় না বরং সচল ও দ্রুত গতিতে চলে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হলে একটা দেশ এমনিতেই নুইয়ে পড়ে। আমেরিকা হয়ত ঘুরে দাঁড়াবে, কিন্তু যে ক্ষতি হয়েছে করোনাভাইরাসের কারণে তা পুষিয়ে নিতে যথেষ্ট সময় নিবে। এদিকে বিল গেটস বলেছেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শেষ হতে সময় লাগবে আরো ছয় মাস। কারণ এর ভেক্সিন এখনো আবিষ্কার হয়নি। ফলে নির্দিস্ট মেডিসিন না থাকার কারণে ভাইরাসের প্রভাব রয়েই যাবে। আর জনগণের মধ্যেও এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। কর্মহীনতার কারণে দিনদিন বেকার বেড়েই চলেছে।

বেকার হয়ে গেছে প্রায় ৭০ লাখ আমেরিকান। এ সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। করোনাভাইরাসের কারণে এদিকে বাংলাদেশি আমেরিকান মারা গেছে ৯৬ জন। যদিও লিস্টে সবার নাম আসেনি। সবার নাম আসলে এ সংখ্যা আরো হবে। কারণ, হাসপাতাল থেকে অনেককে ফিরে আসতে হয়েছে ভেন্টিলেটর যথেষ্ট না থাকায়। এ ক্ষেত্রে করার ও কিছু করারছিল না। কারণ এত বেশি সংখ্যক আক্রান্ত ছিল যে যাদের অবস্থা একেবারে নাজুক তাদের ভেন্টিলেটর দেয়া হয়েছিল।

ফলে অনেকে বাসায় ফিরে এসে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। অন্য হাসপাতালেও একি অবস্থা। কোথায় ও সিট খালি ছিল না, ফলে বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে। তাদের নাম লিস্টে আসেনি। পরিবার থেকে জানানো হয়নি। আমেরিকার প্রতিটি স্টেটে এখন করোনাভাইরাস বিরাজ করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, মৃত্যুর হার কমাতে হলে এ মুহূর্তে ঘরে বসে থাকতে হবে। এছাড়া কোন উপায় নাই। যদি এক্ষেত্রে অবহেলা করা হয় তাহলে মৃত্যুর হার হবে অনেক বেশি।

যা কাম্য নয়। কারণ আক্রান্ত ৫ লাখের উপরে চলে গেছে। এপ্রিল মাসের শেষের দিকে বুঝা যাবে কোথায় গিয়ে ঠেকে মৃত্যুর হার। একটা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে পুরা বিশ্ব, এর মধ্যে আমেরিকা অন্যতম। বিশ্বের মোড়ল যাকে বলা হয় তার এ অবস্থা হবে, এমন বিপর্যন্ত হবে তা কেউ ভাবেনি।

Facebook Comments Box

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১