বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সব

Singapore
Corona Update

Confirmed Recovered Death
57,980 57,883 28

Bangladesh
Corona Update

Confirmed Recovered Death
401,586 318,123 5,838

কোভিড-১৯ প্রতিরোধযজ্ঞ

সিঙ্গাপুর সরকারের সুরক্ষার ছায়াতলে বাংলাদেশি কর্মীরা

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক | ২৭ এপ্রিল ২০২০ | ৩:৫০ অপরাহ্ণ
সিঙ্গাপুর সরকারের সুরক্ষার ছায়াতলে বাংলাদেশি কর্মীরা

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় শুরুর দিকে সব দেশের কাছে রীতিমতো আদর্শ হয়ে উঠেছিল সিঙ্গাপুর। চমৎকার ব্যবস্থাপনায় মহামারির প্রথম ধাক্কা বেশ সফলভাবেই প্রতিরোধ করে দ্বীপরাষ্ট্রটি। তবে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে দুর্বল হয়ে পড়েছে সেই প্রতিরোধের দেয়াল। আর এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছেন এখানে কর্মরত অভিবাসী কর্মীরা।

প্রায় ৫৭ লাখ জনসংখ্যার ছোট্ট নগররাষ্ট্রটিতে শ্রমশক্তির এক-তৃতীয়াংশই অভিবাসী। এর মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ এশীয় দেশগুলোর কর্মীরা নিবন্ধিত ৪৩টি ডরমিটরিতে বসবাস করেন। ইতোমধ্যেই সিঙ্গাপুরের নয়টি বেসরকারি ডরমিটরিতে ছড়িয়ে পড়েছে নভেল করোনাভাইরাস। তবে এজন্য কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক সতর্ক ব্যবস্থা গ্রহণে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এখানকার অভিবাসী কর্মীরা

সিঙ্গাপুরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে অতি দ্রæত। তবে যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের প্রায় অর্ধেকেরও বেশি দেশটির নাগরিক নন। দেশের বাইরে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশিরা আক্রান্ত হয়েছেন সিঙ্গাপুরে। আজকের সর্বশেষ (২৭ এপ্রিল) তথ্য অনুসারে, সিঙ্গাপুরে নতুন করে ৭৯৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মাত্র ১৫ জন স্থানীয়। প্রায় ৬০ শতাংশ বাংলাদেশি আক্রান্ত হয়েছেন। সে হিসেবে প্রায় ৬ হাজার বাংলাদেশি আক্রান্ত হয়েছেন এখানে, তবে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য। গুরুতর অবস্থায় ভর্তি আছেন ২২ জন। ১ হাজার ৬০ জন সুস্থ হওয়ায় তাদের বাড়ি ফেরত পাঠানো হয়েছে। পুরো দেশে মৃত্যু মাত্র ১২।

গত ১০ মার্চ সিঙ্গাপুরে প্রথম করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। এ সময় এক বাংলাদেশির শরীরেও এ ভাইরাস পাওয়া যায়। এরপর থেকে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশিদের আক্রান্তের পরিমাণ বাড়তে থাকে। গত ১৯ এপ্রিল ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি আক্রান্ত হন বলে জানায় দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ। যেসব প্রবাসী মূলত ডরমেটরিতে বসবাস করছেন, তারাই আক্রান্ত বেশি হচ্ছেন বলে জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য বিভাগ। কর্মকর্তারা বলছেন, প্রায় ৫৬টি ডরমেটরিতে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গেছে। আক্রান্তরা বেশিভাগেই এ ডরমেটরিগুলোতে বসবাস করছেন।

সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হাই কমিশনের তথ্য মতে, সিঙ্গাপুরের প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছে।

অভিবাসী কর্মীদের আশ্বস্ত করতে গত ১৭ এপ্রিল সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী ফেসবুক পেজ এ জানান, সরকারের পক্ষ থেকে ইন্টারএজেন্সি টাস্ক ফোর্স কোভিড১৯ মাহামারী থেকে অভিবাসী কর্মী বিশেষ করে যারা ডরমেটরিতে বসবাস করছেনÑতাদের সুরক্ষায় সচেষ্ট রয়েছে। বহুভাষী কর্মীদের সাথে সঠিকভাবে যোগাযোগ করতে আমরা মাইগ্রান্ট ওয়ার্কার্স সেন্টারের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ভাষাভাষীর অ্যাম্বাসাডরদের সাহায্য নিচ্ছি। অভিবাসী কর্মীরা যাতে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে উপলব্ধি করতে পারে এবং আমাদের সাথে কাজ করতে উৎসাহিত হয়। অন্যদিকে আমাদের সেলফ ডিসট্যান্সিং অ্যাম্বাসাডররা কম্যুনিটিতে কঠোর পরিশ্রম করছে। অনেকেই নতুন ব্যবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে নিয়ে সেলফ ডিসট্যান্সিং বজায় রাখছেন। তবে কিছু মানুষ এতে এখনও অভ্যস্ত হতে পারেনি। অনেক অ্যাম্বাসাডরই স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছে এবং তারা কিছু করতে চায়। আমরা তাদের প্রচেষ্টা ও সেবা নিয়ে কৃতজ্ঞ। আমি পাবলিক অফিসারদের প্রতি কৃতজ্ঞ যারা বর্তমান পরিস্থিতিতে ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছে। আমি আন্তরিকতার সাথে ধন্যবাদ জানাই ব্যক্তিগত পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার জন্য বিশেষ করে যারা অভিবাসী কর্মীদের জন্য ফান্ড করছেন, মাস্ক তৈরি করছেন এবং আশ্রয়হীনদের সাহায্য করছেন। আমরা একসাথে কঠিন সময় পার করতে পারলেই সিঙ্গাপুরিয় চেতনা আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হবে।

করোনাভাইরাস

জানা যায়, করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির কারণে সিঙ্গাপুরে অন্তত ২০ হাজার প্রবাসী কর্মীকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। পোঙ্গলে অবস্থিত এস ইলেভেন ডরমেটরি এবং ওয়েস্ট লাইট তোহ গুয়ান ডরমেটরি পুরোপুরি আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে একটিতে ১৩,০০০ কর্মী রয়েছে যার মধ্যে ৬৩ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে এবং অপরটিতে ৬,৮০০ জনের মধ্যে ২৮ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, দেশটির দু’টি সেনাঘাঁটিতে অন্তত ১ হাজার ৩০০ কর্মীকে পৃথকভাবে নিয়ে রাখা হয়েছে। আগামী ৪ মে পর্যন্ত তাদের সেখানেই বিশেষ নজরদারিতে থাকতে হবে। বাকি কর্মীদেরও বিভিন্ন খালি স্থাপনা, প্রদর্শনী কেন্দ্রসহ নানা জায়গায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সেখানে তাদের সামাজিক দূরত্ব মান বজায় রেখেই রাখা হচ্ছে।

এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই করোনার বিস্তার মোকাবিলায় চার সপ্তাহের জন্য অতিরিক্ত কড়াকড়ি আরোপ করেছে সিঙ্গাপুর সরকার। আগামী ৪ মে পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সকল স্কুল, অনাবশ্যক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ‘সার্কিটব্রেকার কর্মসূচি’র আওতায় সিঙ্গাপুরে সব ধরনের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বাংলাদেশি শ্রমিকদের সম্পূর্ণ বেতনসহ আনুষঙ্গিক সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। তাছাড়া সকল শ্রমিককে বিনা মূল্যে খাবার ও চিকিৎসা সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। তাদের চিকিৎসাসহ সার্বিক তত্ত¡াবধানে সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সিঙ্গাপুর।

সিঙ্গাপুরে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের একটি বড় অংশ এখানে কর্মরত বাংলাদেশি হওয়ার কারণে প্রশ্ন উঠছে যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ছোট এই দেশটিতে এত বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন কেন? দীর্ঘদিন যাবত সিঙ্গাপুরে কর্মরত রয়েছেন অসিত কুমার বাঙালী। এখানকার বাংলাদেশি বিভিন্ন কমিউনিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে তার। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশিদের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার বেশি হওয়ার একটি কারণ অল্প জায়গায় অনেক বেশি মানুষের বসবাস। এখানে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীরা সবসময় দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করতে পছন্দ করেন, ফলে তাদের মধ্যে বেশ দ্রæত সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে উল্লেখ করেন অসিত। যেমন তারা সপ্তাহের ছুটির দিনে মোস্তফা মার্টের সামনে খোলা মাঠে সমবেত হন, আড্ডা দেন। অন্য দেশের কর্মীরা এটা সাধারণত করে না। তাছাড়া বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে ধারণা ছিল, করোনাভাইরাস শুধু বয়স্কদেরই হয়।

শ্রমবান্ধব সিঙ্গাপুর সরকারের উদ্যোগ

করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি ঠেকাতে ইতোমধ্যে দেশটির সরকার প্রবাসীদের নিরাপত্তাকল্পে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছেন যা দেখে আবেগে আপ্লুত হয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীরা। গত ১০ এপ্রিল সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি শিয়েন লুঙ তাঁর আবেগঘন এক ভিডিও বার্তায় দেশের অভিবাসী কর্মীদের আশ^স্ত করে বলেছেন, সরকার দেশটিতে কর্মরত সকল অভিবাসী কর্মীর কল্যাণে আন্তরিক ভূমিকা রাখতে বদ্ধপরিকর। কোভিড-১৯ মহামারি প্রতিরোধ করে অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে তার সরকার কাজ করছে। স্বদেশে থাকা পরিবারের ভরণপোষণকল্পে তারা এখানে কঠোর পরিশ্রম করছে। এখানকার এইচডিবি ফ্ল্যাট, চাঙ্গি এয়ারপোর্ট, এমআরটি লাইনস প্রভৃতি তৈরিতে অভিবাসী কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তিনি অভিবাসী কর্মীদের আশ^স্ত করে বলেছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়োগকর্তাদের সাথে

আলাপআলোচনা করেছেন যাতে তাদের বেতন নিয়মিত থাকে এবং দেশে অর্থ পাঠাতে পারে। তিনি বলেন, আমরা আপনাদের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা প্রদান করবো। তিনি আরো বলেন, অভিবাসী কর্মীদের পরিবারের কেউ যদি আমার এই ভিডিও বার্তাটি দেখে থাকেন তাদের উদ্দেশে আমি বলতে চাই যে, সিঙ্গাপুরে কর্মরত আপনাদের সন্তান, বাবা এবং স¦ামীদের কাজ এবং তাদের অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। তাদের সবধরনের কল্যাণ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে তাদের স্বাস্থ্যের যতœ নেয়ার পাশাপাশি জীবনযাপন এবং তাদের কল্যাণ নিশ্চিতকরণে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সুরক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করবো। এবং নিরাপদে তাদেরকে স্বদেশে ফেরত পাঠাবো এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা। তিনি বলেন, অভিবাসী কর্মী অধ্যুষিত সকল ডরমেটরিতেই পরামর্শ ও সহায়তার জন্য সিঙ্গাপুর আর্মড ফোর্সেস, পুলিশ এবং জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ইন্টার এজেন্সি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে যারা ডরমেটরি অপারেটরদের সাথে মিলেমিশে কর্মীদের অতি গুরুত্বপূর্ণ চাহিদাগুলো যেমন চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ, ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া, খাবার সরবরাহ ও প্রশাসনিক ও হাউজকিপিং প্রভৃতি বিষয়ে কাজ করবে। কর্মীরা যাতে খাবার এবং পানি পায় সেটি নিশ্চিত করবে এবং ওয়াইফাই ব্যবস্থা নির্বিঘœ রাখবে যাতে কর্মীরা দেশে পরিবারদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে এবং একইসাথে বিনোদনও পেতে পারে।

তিনি সিঙ্গাপুরের বর্ষিয়ানদের প্রতি আহŸান জানিয়ে বলেন, অনুগ্রহপূর্বক বুঝতে চেষ্টা করুন। আমরা আপনাদের নিরাপত্তার জন্যই বাড়িতে অবস্থান করতে বলছি। যদি আমরা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হই তবে মৃত্যুর হার বেড়ে যাবে। এতে করে আমাদের বন্ধুবান্ধব আত্মীয়স্বজন সংক্রমিত হবে। ভাইরাস বহন করে বাড়িতে ফিরলে পরিবার আক্রান্ত হবে, তাদেরকে বিপদে ফেলা হবে। এই সময়টা সিঙ্গাপুরিয়দের জন্য ত্যাগের সময়। তাদের নিজ নিজ ত্যাগের মধ্য দিয়েই সার্কিট ব্রেকারকালীন সংকট মোকাবেলা করতে হবে। তিনি স্বীকার করেন যে, এই সংকট খুবই অসুবিধাজনক এবং এজন্য আমাদের অর্থনীতিকে চরম মূল্য দিতে হবে। তবে আমরা যতটা কঠোরতার সাথে এটি প্রতিরোধ করতে পারবো তত দ্রæতই এটি কাটিয়ে উঠতে পারবো এবং শীঘ্রই এটা থেকে নিজেরা মুক্ত হতে পারবো। সামান্য একটু অসাবধানতায় যদি সার্কিট ব্রেকার সফল করতে না পারি তবে এর জন্য আমাদের ত্যাগ, ব্যথা, দুর্ভোগ সব কিছুই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। প্রতি মুহূর্তের আপডেট সময়মতো সবাইকে অবহিত করতে থাকবো। কোন কিছুর সুফল পেতে হলে আগে খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, আমরা সেই সময়টাই অতিক্রম করছি তবে আমরা জানি, সূর্য শীঘ্রই তার আলো দিয়ে আমাদের সবাইকে ভরিয়ে দেবে।

এর আগে প্রবাসীদের উদ্দেশে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট মিনিস্টার লরেন্স অং বলেন, করোনাভাইরাস কত দ্রæত ছড়ায় তা যদি আরও আগে জানতে পারতাম, তাহলে হয়তো ভিন্নভাবে কাজ করা যেত। আমি জানি আপনারা অনেকে চিন্তিত এবং আমি নিশ্চিত যে আপনাদের পরিবারের সদস্য এবং প্রিয়জনেরাও উদ্বিগ্ন। এটি অবশ্যই আপনাদের জন্য বেশি কষ্টকর কারণ আপনি নিজের বাড়ি এবং প্রিয়জন থেকে এত দূরে রয়েছেন। আমি গত ৫ বছরে অভিবাসীকর্মীদের বিষয়ে সংসদে কথা বলেছি এবং আমি কথা বলতেই থাকব। আপনাদের লকডাউন করা দুটি ডরমিটরি সম্পর্কে আশ্বস্ত করতে চাই।

১. কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস্থায় আপনাদের কোম্পানি বেতন দেওয়া অব্যাহত রাখবে।
২. কোয়ারেন্টাইনে থাকা শ্রমিকদের খাওয়ার জন্য দিনে তিনবার খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। তাদের মাস্ক, থার্মোমিটার, স্যানিটাইজার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলি দেওয়া হবে। আমরা অনসাইটে দেশে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করব।
৩. অনসাইটে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে। দুই ডরমিটরিতে ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মেডিকেল টিম পাঠিয়েছে।

নিরাপদে রয়েছেন বাংলাদেশি কর্মীরা

এখন পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের চিকিৎসা ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম সেরা বলে মনে করা হয়। করোনাভাইরাস সংক্রমণে দেশটিতে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা মাত্র বার জন। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশের তুলনায় এ সংখ্যা একবারেই নগণ্য। বাংলাদেশে দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অভিবাসী শ্রমিক হলেও বাংলাদেশিদের চিকিৎসার ব্যাপারে সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ কোনও ত্রæটি রাখছে না। তাদেরকে ভালো চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

 


এদেশের সরকার তাদের নাগরিকদের মতোই সকল প্রবাসীদের কিভাবে নিরাপদে রাখা যায়, সেজন্য আন্তরিক উদ্যোগ নিয়েছেন। আমাদের উচিত হবে সিঙ্গাপুর সরকারকে সহযোগিতা করা। তারা যেসব নিয়ম কানুন মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন সেগুলো মেনে চলা। আমরা সবাই বাড়িতে থাকব, নিরাপদে থাকব। সরকার ও এদেশের নাগরিক সবার সাথে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে সিঙ্গাপুরকে নিরাপদ রাখতে চেষ্টা করব। এই অবসর সময়ে আমরা যতটা পারি যার যার ধর্মীয় বিধি বিধান পালন করতে পারি অবসরে বই পত্রিকা পড়ে আমরা সমৃদ্ধ হতে পারি


সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশি প্রবাসীরা বেতন, খাবার ও চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন এখানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান। গত ১০ এপ্রিল সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশের দূতাবাস থেকে এক ভিডিও বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। সিঙ্গাপুর প্রবাসীদের উদ্দেশে ভিডিও বার্তায় হাইকমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আপনাদের বেতন নিয়মিত পাওয়ার জন্য সিঙ্গাপুর সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বেতন সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া আপনারা তিন বেলা যেন খাবার পান সেটাও নিশ্চিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে আপনাদের চিকিৎসা সুবিধাও দেওয়া হবে। এ নিয়ে সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। হাইকমিশনার বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো সিঙ্গাপুরেও করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আপনারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবেন। ডরমিটরিতে খাবার সময় ও অবকাশ সময় আলাদা করে দেওয়া হয়েছে। এটা কঠিন হলেও মেনে চলার জন্য অনুরোধ করছি। সিঙ্গাপুর G S ENGINEERING & CONSTITUTION CORPএ কর্মরত আল ইসলাম চাঙ্গী লজ টু ডরমিটরিতে বাস করেন। তিনি বলেন, আমার কাজের সাইট থানামেরা কুশেক লিম রোড, আমি কাজের সাইটে খুব নিরাপদেই ছিলাম আমাদের সাইটে সকাল বিকাল তাপমাত্রা চেক করতো, আমাদের বøাড চেক করেছে। আমরা ৭ এপ্রিল থেকে লকডাউনে। দেশের বাড়িতে প্রতি দিন যোগাযোগ রাখছি। সিঙ্গাপুর সরকার আমাদের জন্য যা করেছেন তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। তবে বাংলাদেশ হাই কমিশন থেকে আশানুরূপ সেবা আমরা পাইনি। নিজের কাছে নিজেকে অপরাধী মনে হয়, বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেছি ভেবে। অন্য দেশের সরকার আমাদের কতো কেয়ার করছে, আর আমার দেশের মানুষ প্রবাসীদের অপমান করছে, গালি দিচ্ছে, আমাদের নিজেদের নিয়ে চিন্তা নেই, এখানে নিরাপদেই আছি। চিন্তা হয় দেশের মানুষদের জন্য, সরকারের কাছে আমি অনুরোধ করছি আমাদের অনুপস্থিতিতে আমাদের পরিবার-পরিজনদের প্রতি সুদৃষ্টি রাখুন।

অং প্লামবিং এন্ড ইলেক্ট্রিকাল লিমিটেড এ কর্মরত মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত ভাল আছি। আমার বস অনেক ভাল একজন মানুষ, সিঙ্গাপুর সরকারের কভিড-১৯ সম্পর্কে উদ্বেগ ও আমাদের নিরাপত্তার জন্য উদ্যোগগুলো সত্যিই প্রশংসনীয়। আমাদের বাংলাদেশ হাই কমিশনও কিছু কাজ করার চেষ্টা করছে যদিও সেটা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সর্বোপরি এখন পযন্ত আল্লাহ ভাল রেখেছেন। আমাদেরকে সমদৃষ্টিতে দেখার জন্য অবশ্যই সিঙ্গাপুর সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।

সিঙ্গাপুর Air-conditioning এর কোম্পানিতে কাজ করেন নূরুল আলম এন এ। তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন একটা Construction site এ একাধিক কোম্পানির প্রায় ২৫০-৩০০ শ্রমিক কাজ করে আসছিলাম। কিন্তু ‘করোনা ভাইরাস’ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় এবং দিন দিন ক্রমাগত বাড়তে থাকায় আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। কাজের জায়গায় সকাল, দুপুর, বিকেলে সবার Temperature পরীক্ষা করা হয় কিন্তু করোনা ভাইরাস মহামারী আকারে যাওয়ায় সিঙ্গাপুর সরকার নির্মাণ কাজের জায়গাগুলো বন্ধ করে Applying circuit breaker নামে ঘোষণা করে। কর্তৃপক্ষ আমাদের ডরমেটরিতে থাকার জন্য যথেষ্ট নিরাপত্তা প্রদান করে যাচ্ছে। আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত Circuit breaker নৎবধশবৎ থাকায় এবং শ্রমিকদের কাজ বন্ধ থাকায় সরকার সকল শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যাতে সবাই বাড়িতে টাকা পাঠাতে পারে। তারা যেনো আর্থিকভাবে অসুবিধায় না পড়ে। পরিবারের সাথে যোগাযোগের জন্য প্রতিটি ডরমেটরিতেFree Wifi এর ব্যবস্থা করেছে। প্রয়োজনে কারো বাইরে যেতে হলে সুরক্ষার জন্য মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা লোকদের জন্য সরকার খাবারের ব্যবস্থা করেছে এবং সকল আক্রান্ত রোগীর জন্য ভালো মানের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ হাই কমিশনার বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য সচেতনতা বিষয়ে, সুস্বাস্থ্য নিয়ে কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশে যারা অবস্থান করছেন বা প্রবাসীর পরিবারের সবাইকে বলতে চাই আমরা ভালো আছি। পাশাপাশি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি সিঙ্গাপুর সরকারকে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য নিয়ে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করার জন্য।

সাউথ তোয়াজে বসবাসরত কিরণ মাহমুদ মান্না বলেন, আমি একটি বিল্ডিং মেইনটেন্যান্স কোম্পানিতে কাজ করি। করোনা ভাইরাস সারাবিশ্বে মহামারীরূপে আবির্ভুত হয়েছে। সিঙ্গাপুর সরকার করোনা নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। আমাদের বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যে খুব আতঙ্ক বিরাজ করছিল। তবে সিঙ্গাপুর সরকার এদেশে অবস্থানরত সকল অভিবাসীদের পাশে যেভাবে দাঁড়িয়েছেন। সেটা খুবই প্রশংসনীয়। এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে সিঙ্গাপুর সরকার করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সার্কিট ব্রেকার এবং এক মিটার ডিস্টেন্স আইন চালু করেছে।

সিঙ্গাপুরের একটি সাপ্লায়ার্স কোম্পানিতে গত চার বছর যাবত কাজ করছেন মহিউদ্দিন সরকার। তিনি বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক মতো চললেও করোনা ভাইরাস আক্রমণের সাথে সাথে মানসিকভাবে ভারাক্রান্ত ছিলাম। তবে এখন আর ভয় পাচ্ছি না। কর্মক্ষেত্রে কাজ করতে কোন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি বা নিয়োগকর্তা থেকে কোনপ্রকার অসহযোগিতা পাইনি। আমার ডরমেটরির পরিবেশ ভাল এবং সুরক্ষার নিশ্চয়তা যতটুকু পাবার পাচ্ছি বলে মনে হয়। নিঃসন্দেহে সিঙ্গাপুর সরকার এর গৃহীত পদক্ষেপসমূহ শতভাগ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। এর মধ্যে তিনটি সুবিধার কথা উল্লেখ করতে চাই-নিয়মিত বেতন পাবার নিশ্চয়তা, তিনবেলা খাবার এবং অসুস্থ্য হলে চিকিৎসার নিশ্চয়তা। বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে কেউ কোন প্রকার ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন বা পাচ্ছেন তা শুনিনি। এ ব্যাপারে হাইকমিশন এর সজাগ দৃষ্টি কামনা করছি। এহেন পরিস্থিতিতে আরো একটি লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো যাদের পাসপোর্ট এর মেয়াদ বাড়ানো বা রিনিউ করা দরকার তারা করতে পারছেন না বলে তারা চরম হতাশাগ্রস্ত। বিশেষভাবে হাইকমিশনের এ ব্যাপারে সুদৃষ্টি কামনা করছি। দেশে প্রিয়জনদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে এবং তাদের মধ্যে কেউ ভাইরাসে আক্রান্ত হননি এখন পর্যন্ত। সিঙ্গাপুর এ বসবাসরত অন্যান্য প্রবাসীদের বলব এখানে সরকার, মন্ত্রীসভা এবং জনশক্তি মন্ত্রণালয় থেকে যেসব নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে সেগুলো অবশ্যই অনুসরণ করবেন এবং মেনে চলবেন। বাংলাদেশ এবং সিঙ্গাপুর, দুই দেশের সরকারের কাছেই চাওয়া থাকবে, এহেন পরিস্থিতিতে কারো পাসপোর্ট রিনিউ সমস্যা বা পারমিট রিনিউর দরকার হলে যথাসম্ভব দ্রæততার সাথে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

সিঙ্গাপুরে কর্মরত প্রবাসী রাজু বলেন, প্রথম ধাপে যখন চীনে এই ভাইরাস ধরা পড়ে, তখন সিঙ্গাপুর সরকার অনেকটা সর্তকতা অবলম্বন করায় তুলনামূলকভাবে অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা ভালো ফল পেয়েছি। আমি নিজেই অনেক বাংলাদেশি ভাইদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, ভাই আপনাদের পরিবার কি বলে, সবাই প্রায় একই কথা বলেছিল। বাবা-মা দেশে ফিরে যেতে বলে, কিন্তু ভাই দেশে যাওয়ার পর যদি কোন সমস্যা হয় তখন কি হবে? দেশের সরকার ফ্রী চিকিৎসা, খাবার, খরচ দিতে পারবে? পারবে না। আর সিঙ্গাপুরে থাকলে, কোন সমস্যা হলে, সিঙ্গাপুর সরকার সব কিছুই করবে। আসলে আমরা যারা সিঙ্গাপুর প্রবাসী তারা সবাই এই একটা কথা বিশ্বাস করি যে, সিঙ্গাপুর সরকার প্রবাসীদের জন্য যা ভালো হয় এবং যা করার তা সবই করবে। এই একটা ভরসার জন্য সিঙ্গাপুর প্রবাসীরা নিজ দেশে ফিরে যায় নাই। আমরা প্রায় কম বেশী সবাই ধরে নিয়েছিলাম সিঙ্গাপুর অন্যান্য দেশের মতোই লকডাউন এ যাবে।

জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি শিয়েন লুঙ বলেছেন, আমরা সার্কিট ব্রেকার এ যাচ্ছি। অনেক প্রবাসী ধরে নিয়েছিল যে, এই সার্কিট ব্রেকার হলো লকডাউন। আসলে তা নয়। শুধু জরুরি সেবা ছাড়া বাকি প্রায় সবার কাজ বন্ধ। সরকার সবার বেতন নিশ্চিত করেছেন। তাই এখানকার প্রবাসীদের ভয়ের কোন কারণ নাই। এদেশের সরকার তাদের নাগরিকদের মতোই সকল প্রবাসীদের কিভাবে নিরাপদে রাখা যায়, সেজন্য আন্তরিক উদ্যোগ নিয়েছেন। আমাদের উচিত হবে সিঙ্গাপুর সরকারকে সহযোগিতা করা। তারা যেসব নিয়ম কানুন মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন সেগুলো মেনে চলা। আমরা সবাই বাড়িতে থাকব, নিরাপদে থাকব। সরকার ও এদেশের নাগরিক সবার সাথে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে সিঙ্গাপুরকে নিরাপদ রাখতে চেষ্টা করব। এই অবসর সময়ে আমরা যতটা পারি যার যার ধর্মীয় বিধি বিধান পালন করতে পারি অবসরে বই পত্রিকা পড়ে আমরা সমৃদ্ধ হতে পারি।

অভিবাসী কর্মী আব্দুল বাসেত বলেন, আমি যে ডরমেটরিতে ছিলাম ওখান থেকে আমাদেরকে সরিয়ে নিয়ে অন্য জায়গায় কোম্পানির অফিসে রাখা হয়েছে। খাবার-দাবার কিনে খেতে হচ্ছে। নিজের জন্য চিন্তা করতে হয়। ফ্যামিলির জন্য চিন্তা করতে হয়। আবার এদিকে কাজও করতে হয় যেহেতু আমি সরকারি পানির প্রজেক্টে কাজ করি। কোন কিছুতেও কষ্ট না হলেও দেশের জন্য সবসময় আতঙ্কিত থাকি কখন যে কি হয়ে যায়। শুধু আমি না সবার মাঝেই এই আতঙ্ক বিরাজ করছে। এসব সত্তে¡ও আরো কষ্ট লাগে যখন দেখি প্রবাসীদের নিয়ে আমাদেরই দেশের কিছু মানুষ কুৎসা রটনা করে যে বিশে^র অন্যান্য দেশে থেকে এই করোনাকালীন দেশে ফিরে যাওয়া প্রবাসীরাই করোনা ভাইরাস বহন করে নিয়ে দেশে ছড়িয়েছে। তারপরও দোয়া করি সকলে ভালো থাকুক, নিরাপদ থাকুক।

সিঙ্গাপুর প্রবাসী তারেক বলেন, কোন ধরনেরই শারীরিক অসুস্থতা গোপন করা উচিত নয়। অসুস্থ হলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার দেখানো উচিত। সবাই যদি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকি এবং একটু সচেতন হই তবে করোনা থেকে নিজেদের ও আশেপাশের সবাইকে রক্ষা করতে পারবো। সিঙ্গাপুর সরকার আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থার নিশ্চয়তা সহ আমাদের বেতনেরও নিশ্চয়তা দিয়েছে এতে আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। তবে প্রধানমন্ত্রী লি শিয়েন লুঙ এর নিকট অনুরোধ করবো তিনি যেন সব অভিবাসী কর্মীদের স্বাস্থ্য সম্মত থাকার জায়গা নিশ্চিতকরণ, থাকার জায়গা থেকে কাজের জায়গায় নিরাপদে যাতায়াত ব্যবস্থা এবং আমাদের সময়ের মূল্যায়ন নিশ্চিত করায় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

গত ৫ এপ্রিল সিঙ্গাপুরের জনশক্তিমন্ত্রী জোসেফিন তিও বলেছেন, কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো সবার স্বাস্থ্য ও সুস্থতা নিশ্চিত করা। কেবল সিঙ্গাপুরের নাগরিকই নয়, বিদেশি কর্মী যারা এখানে আছেন তাদের জন্যও। আমরা বিদেশিকর্মীদের এই আশ্বাস দিতে চাই যে, এই পদক্ষেপগুলি তাদের স্বার্থ এবং তাদের মঙ্গলার্থে নেওয়া হয়েছে। জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি জেসন চেন বলেন, মাস্কস, থার্মোমিটার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং স্ন্যাকসসহ বিনামূল্যে খাবার এবং গুডি ব্যাগ কর্মীদের দেওয়া হবে। কর্মীদের আন্তঃ-মিশ্রণ হ্রাস করার জন্য বিনোদনমূলক সুবিধাগুলি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে, যারা ভালো আছেন তাদের সুরক্ষার জন্যও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

জনশক্তি মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বøকগুলির মধ্যে চলাচল নিষিদ্ধ এবং শ্রমিকদের একই ঘর বা মেঝেতে না থাকা অন্যদের সাথে সামাজিক যোগাযোগ বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোয়ারেন্টাইন চলাকালীন শ্রমিকরা স্বাস্থ্য সেবা পাবেন। এমনকি দৈনিক দুইবার তাদের তাপমাত্রা চেক করে প্রতিবেদন করা এবং জ্বর এবং শ্বাস প্রশ্বাসের লক্ষণগুলির জন্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এইসময় অসুস্থদের পৃথক করে দেওয়া হবে এবং চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে পাঠানো হবে।

দেশে টাকা পাঠানোর সুবিধাও তারা পাবেন। দুই ডরমিটরির কোয়ারেন্টাইনে থাকা শ্রমিকরা কাজ করতে যাবেন না, তবে তাদের বেতন দেওয়া অব্যাহত থাকবে। কারণ বৈদেশিক জনশক্তি আইনের অধীনে চাকরির ছুটি যোগ্যতার অংশ হিসাবে চূড়ান্ত সময়কালকে হাসপাতালে ভর্তি ছুটি হিসাবে বিবেচনা করা হবে।

সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন অভিবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। Itsrainingraincoat নামে একটি সামাজিক সংগঠন জানিয়েছে, সিঙ্গাপুরে যদি কেউ খাদ্য অথবা বেতনের বিষয়ে সমস্যায় পড়েন তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। সংগঠনটি যোগাযোগের জন্য কয়েকটি নম্ব^র দিয়েছেÑ৯২৭২৩৪৭৮, ৯৪২১৫২৮৭, ৮৪৯১৭৮২২, ৯৭৩৪১৩৫৮
আরেকটি সংগঠন Transient Workers Count Too (TWC2)

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানিয়েছে, ডরমেটরির কোনো ওয়াইফাই সমস্যা কিংবা প্রিপেইড কার্ডে ডাটা নিয়ে ঝামেলা হলে আমাদের জানান হোয়াটসঅ্যাপ হটলাইনের ৬৫৬২৯৭৭৫৬৪ ও ৮৪৫৮৭৪৫৬ এই নম্ব^রে। এছাড়া ‘সামাসামা’ নামের আরেকটি সামাজিক সংগঠনও প্রবাসীদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।

আতঙ্ক হ্রাসে সিঙ্গাপুরস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রচারাভিযান

করোনা ভাইরাসের সচেতনতার লক্ষ্যে সিঙ্গাপুরস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি শ্রম কল্যাণ উইং, বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক সিঙ্গাপুরস্থ বিভিন্ন ডরমেটরি সরেজমিন পরিদর্শনপূর্বক বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের সাথে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিষয়ে মতবিনিময়, পরামর্শ প্রদান, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, মাস্ক ও হ্যান্ড ওয়াস বিতরণ করেছে। প্রবাসীদের মধ্যে অনেকেই দূতাবাসের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে জানানো হয়েছে, প্রবাসীদের পাশে সবসময় বাংলাদেশ দূতাবাস থাকবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই। শুধুমাত্র সচেতনতা ও সতর্ক থাকাই করোনা ভাইরাস আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে, এবং পর্যায়ক্রমে সবগুলো ডরমিটরিতে গিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ, ২০১৯ সালের জুন এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটিতে ১৪ লক্ষ অভিবাসী কর্মীসহ ৫৭ লক্ষ মানুষের বসবাস। এর মধ্যে ২,৮৪০০০ অভিবাসী কর্মী নির্মাণ শিল্পে কর্মরত। নির্মাণশিল্পের নিয়োগকর্তারা ভারত, বংলাদেশ, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ডসহ ১২টি দেশ থেকে অভিবাসী কর্মী আনার অনুমতি পেয়ে থাকে।
মারণঘাতী করোনা ভাইরাস মুক্ত থাকতে নিজেকে ঢেকে ফেলতে হবে পরিচ্ছন্নতার সুরক্ষাবর্মে, তবেই মিলবে রক্ষা। তাই বাংলার কণ্ঠ’র পক্ষ থেকে প্রবাসী ভাইদের প্রতি অনুরোধ, এসময়ে আতঙ্কিত হয়ে নয় সাহসিকতার সাথে মোকাবেলা করুন। একমাত্র আপনিই পারবেন নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে, আপনার আশেপাশের সকলের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ফেসবুকের গুজব বা ফেইক নিউজের বশবর্তী না হয়ে বাস্তবতার আলোকে চিন্তা করুন। আজ এ দেশের সরকার যেভাবে আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছে আপনারাও এদেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে, তাদের নির্দেশনা মেনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই সম্ভব প্রাণঘাতী অদৃশ্য এ শক্তি কোভিড-১৯ কে রুখে দেওয়া। বাড়িতে থাকুন, নিরাপদে থাকুন।

 

Facebook Comments

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১