মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২

১২ আশ্বিন, ১৪২৯

সব

Singapore
Corona Update

Confirmed Recovered Death
59,879 59,746 29

Bangladesh
Corona Update

Confirmed Recovered Death
543,717 492,059 8,356

এই দেশ অপরাধীর অভয়ারণ্য হতে পারে না

খুশী কবির | ১২ আগস্ট ২০২২ | ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
এই দেশ অপরাধীর অভয়ারণ্য হতে পারে না

মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ দিন দিন কমে যাচ্ছে। নৈতিকতা, মানবতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে দেশে ধর্ষণ বেড়ে যাচ্ছে। আগে এমনটি ছিল না। বর্তমান সমাজের মতো নিরাপত্তাহীনতায় নারীরা কখনও ভোগেনি। এখনকার সময়ে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ বাড়ছে। ন্যায়-অন্যায়ের পরোয়া না করে ভোগের মানসিকতা তারুণ্যের সৌন্দর্যকে নষ্ট করে দিচ্ছে।
কাছের মানুষ বা বিশ্বস্ত ব্যক্তির দ্বারা ধর্ষণের শিকার হওয়া নিয়ে ১৫-২০ বছর আগে থেকেই অনেকে লেখালেখি শুরু করেছেন। জোর করে ধর্ষণের চেয়ে কাউকে বিশ্বাস করে দুর্বলতার কারণে হেরে গিয়ে আমাদের সমাজে অধিকাংশ নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। পরিচিত জন, যাঁর প্রতি আস্থা-ভরসা রেখে একসঙ্গে ঘুরতে বা বেড়াতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তার বা তাদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হওয়ার মানে বুঝতে হবে- নৈতিক স্খলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে গেছি আমরা।
সম্প্রতি পঞ্চগড়ে প্রেমিকের সঙ্গে দশম শ্রেণির এক ছাত্রী বেড়াতে গিয়ে ধর্ষিত হয়েছে। আরও অবাক করার বিষয়, সে শুধু ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি; তার বন্ধুকে দিয়েও প্রেমিকাকে ধর্ষণ করিয়েছে। এমনকি মেয়েটি যখন সহায়তার জন্য চিৎকার দিল তখন স্থানীয় কয়েকজন এসে তাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে। দলবদ্ধ এই ধর্ষণের পর এটাই বুঝতে হবে- নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চরম অধঃপতন ঘটেছে। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রুখতে মেয়েদেরও সতর্ক হতে হবে। যেহেতু সমাজে পচন ধরেছে, তাই নিরাপত্তা নিজেদেরই নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
আমি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছি। লঞ্চ, বাস, ট্রেনে চষে বেড়িয়েছি। এসব গণপরিবহনে পাশে অনেক লোক ছিল। কিন্তু কখনও অপ্রত্যাশিত আচরণের মুখোমুখি হইনি। যার ফলে গণপরিবহনকে সবসময় নিরাপদ মনে করতাম। কিন্তু সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে, গণপরিবহন যেন বেশি অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।
বাসে ডাকাত উঠেছে। অনেক যাত্রীর মধ্যে একজন নারী তার প্রতিবাদ করেছেন। পরিণামে তাকে ধর্ষণ করা হলো। এই ঘটনার রেশ না কাটতেই গাজীপুরে আরেকটি বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। স্বামীকে মারধর করে বাস থেকে ফেলে দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এই যে মানুষ অপরাধপ্রবণ হয়ে যাচ্ছে, এর দায় কার? আমরা যদি অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে একের পর এক ঘটনা ঘটতেই থাকবে। এটা যেন মহামারি আকার ধারণ করেছে। আগেকার দিনে মানুষের প্রতি যে শ্রদ্ধা ও মূল্যবোধ ছিল, তা ধীরে ধীরে নামতে নামতে এখন একটুও নেই।

মনে রাখতে হবে- ধর্মকে অপব্যবহার করে নারীবিদ্বেষী বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। ওয়াজের নামে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া ভিডিও ইউটিউবে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বারবার বলছি, এসব নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কে শোনে কার কথা! আমাদের দেশে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন আছে। কিন্তু এসব নারীবিদ্বেষী বক্তার ক্ষেত্রে সে আইনের প্রয়োগ দেখছি না।
আগের ঘটনার তদন্ত ও বিচারে দীর্ঘসূত্রতা দূর করা না গেলে অপরাধীরা কঠোর বার্তা পাবে না। বিচার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা গেলে অপরাধীদের মধ্যে ভয় কাজ করবে। যে কোনো দেশেই অপরাধীদের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা জরুরি। ভবিষ্যতে কেউ অপরাধ করলে তাদের একই পরিণতি ভোগ করতে হবে- এটা মনে করিয়ে দেওয়া জরুরি। কিন্তু আমরা অতীতের অনেক ঘটনার এখনও বিচার করতে পারিনি।
গণপরিবহনে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা খুবই চিন্তার বিষয়। আমাদের দেশে এসব খারাপ ঘটনা একের পর এক ঘটার রেওয়াজ হয়ে গেছে। যেভাবে একটি আত্মহত্যার পর আরও কয়েকটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। গণপরিবহনে টাঙ্গাইল এলাকায় একটি ডাকাতির পর গাজীপুরে ডাকাতি হয়েছে। হয়তো অপরাধী চক্রটি আবার কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটাবে, যেটা আমাদের কারও কাম্য নয়।
গণপরিবহনে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে ডিজিটালি তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা যেতে পারে। যাত্রী অভিযোগ করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। চালক ও হেলপারের সহায়তায় অনেক সময় অপকর্ম হয়। সম্প্রতি আজিমপুরে এক কলেজছাত্রীকে শ্নীলতাহানির চেষ্টা করেছে চালক ও তার সহকারী। ছাত্রীটি বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে বাস থেকে লাফিয়ে পড়ে রক্ষা পেলেও জীবনের ঝুঁকি ছিল। আমাদের পরিবহন সেক্টরে অরাজকতা চলছে। এ জন্য মালিকদের দায়িত্ব নিতে হবে। শক্তিশালী মালিকের গণপরিবহনের কর্মচারীরা মনে করে, মেরে ফেলেও পার পাওয়া যাবে; ধর্ষণ করেও পার পাওয়া যাবে। ফলে পরিবহন সেক্টরে অপরাধপ্রবণতা বেড়েই চলেছে।
যখনই দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটে তখন আমরা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে বক্তব্য দিই; মানববন্ধন করি। ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে ছুটে যাই, তাদের সান্ত্বনা দিই। মামলা চালানোর ব্যাপারে আইনি সহায়তা দিই। আমাদের মতো রাজনীতিবিদরাও সেখানে যান। সরকারি দলের হলে বিচারের আশ্বাস দেন; বিরোধী দলের হলে সরকারের সমালোচনা করে বিচারহীনতার কথা বলে আসেন। নানা প্ল্যাটফর্ম থেকে অর্থনৈতিক সহায়তাও মাঝেমধ্যে দেওয়া হয়। এসব ঘটনার পর সংবাদমাধ্যম বড় ভূমিকা পালন করে। তারা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয়। তারপরও কি বন্ধ হচ্ছে এসব?
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের পর তিনি ওই ছিনতাইকারীকে ধরতে না পারলেও আরেক ছিনতাইকারীকে ধরেছেন। সাহসিকতার পরিচয় দিলেও তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারতেন। এ ঘটনার পর দেশে মেয়েটির সাহসিকতা নিয়ে অনেক প্রশংসা হচ্ছে। ছিনতাই কিন্তু বন্ধ হয়নি। দুই একটি ব্যতিক্রমী ঘটনায় ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন কিংবা অপরাধ দূর হবে না। এ জন্য চাই সামাজিক প্রতিরোধ ও সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা। পুলিশ, প্রশাসন, ক্ষমতাসীন দল, বিরোধী দল- সবার দায়িত্বশীলতা। কারণ দেশটি সবার। ৩০ লাখ শহীদের প্রাণ ও দুই লাখের বেশি মা-বোনের সল্ফ্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ অপরাধীর অভয়ারণ্য হতে পারে না। গুটিকয়েক অপরাধীর কাছে একটি স্বাধীন দেশ জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না।
লেখক: সমন্বয়ক, নিজেরা করি

Facebook Comments Box

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০