শুক্রবার, ১২ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

সব

Singapore
Corona Update

Confirmed Recovered Death
59,879 59,746 29

Bangladesh
Corona Update

Confirmed Recovered Death
543,717 492,059 8,356

শত কোটি টাকা বরাদ্দের পরও পরিচয়পত্র মিলছে না কোটি প্রবাসীর

নিউজ ডেস্ক | ০২ আগস্ট ২০২২ | ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
শত কোটি টাকা বরাদ্দের পরও পরিচয়পত্র মিলছে না কোটি প্রবাসীর

দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি রেমিটেন্স। বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের শ্রমে যা অর্জিত হয়। এই প্রবাসীদের সেবাপ্রাপ্তি সহজ করতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন খুব কমই দেখা যায়। বিশেষ করে সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে অপরিহার্য দলিল বলে বিবেচিত জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সহজে মেলে না প্রবাসীদের। এ কারণে রেমিটেন্স যোদ্ধাদের মধ্যে এক কোটিরও বেশি ‘পরিচয়হীন’। ফলে বিদেশ থেকে ফিরে কোথাও পরিচয়পত্র দেখাতে না পারলে তাদের পড়তে হয় নানা সমস্যায়। এসব প্রবাসীকে পরিচয়পত্র দিতে একটি প্রকল্প রয়েছে সরকারের। যেখানে বরাদ্দও আছে শত কোটি টাকা। কিন্তু প্রকল্প গ্রহণের এক বছরের বেশি সময় পেরোলেও ফল এখনো শূন্য। আবার প্রবাসীদের বন্ড ক্রয়ের বিনিয়োগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
রাসেল দীর্ঘ সাত বছরের বেশি সময় ধরে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তিনি দেশত্যাগের আগে এনআইডি করেননি। এখন বয়স ২৯ বছর পেরুলেও পরিচয়হীন তিনি। জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন রাসেল। সেজন্য মালয়েশিয়ায় এনআইডি কার্যক্রম উদ্বোধনের পর বেশ খুশি হয়েছিলেন এই রেমিটেন্সযোদ্ধা। তবে সেই আনন্দ বেশিদিন থাকেনি, তার মালয়েশিয়ান মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধনের চেষ্টা করলেও সেটি কোনোভাবেই নেয়নি এই ওয়েবসাইট। রাসেল বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায়। যখন এখানে এসেছি তখন আমার এনআইডি হয়নি। পরে দেশে যাওয়া হয়নি আর এনআইডি কার্ডও করা হয়নি। মালয়েশিয়ায় এনআইডির কার্যক্রম উদ্বোধন হওয়ায় বেশ খুশি হয়েছিলাম, কিন্তু এখন দেখছি আমার যে মোবাইল নম্বর, সেটা দিয়ে রেজিস্ট্রেশনের কার্যক্রমই শুরু করা যাচ্ছে না। একই অবস্থা আমার পরিচিত কয়েকজন প্রবাসীরও। ফলে আদৌ এনআইডি পাবো কি না সেটি নিয়ে সংশয়ে আছি। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) অনুবিভাগ সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রবাসীদের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রবাসেই তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না পাওয়ায় কাজটি শুরু করা সম্ভব হয়নি। এক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছেন প্রবাসীসহ সংশ্লিষ্টরা।
এনআইডি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্বের ৪০টি দেশে মোট এক কোটি ৪০ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩৪ বাংলাদেশি রয়েছেন এনআইডি ছাড়া। ২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশন থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়, মালয়েশিয়ায় ৮ থেকে ৯ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি বসবাস করেন, যার মধ্যে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ প্রবাসীর এনআইডি নেই। কাতারের বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, সেখানে বসবাসরত চার লাখ বাংলাদেশির মধ্যে ৫০ হাজার প্রবাসীর এনআইডি নেই। মিশরের বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, সেখানে বসবাসরত আট হাজার প্রবাসীর মধ্যে পাঁচ হাজারের এনআইডি নেই। এছাড়া আইডিয়া প্রকল্পের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে চার লাখ ৪৯ হাজার ৫৮৮ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৪১ হাজার ৫৫২, যুক্তরাজ্যে ১০ হাজার ১০৭, ইতালিতে ৫৫ হাজার ৫২০, হংকংয়ে পাঁচ হাজার, মিশরে ২৩ হাজার ৮৪, ব্রুনাইয়ে ৭৪ হাজার ৮৯৩, মরিশাসে ৬৯ হাজার ৪৭৬, ইরাকে ৭৫ হাজার ৭৪৮, যুক্তরাষ্ট্রে ৮০ হাজার, জাপানে ৬০ হাজার, অস্ট্রেলিয়ায় ৪০ হাজার, গ্রিসে ২৫ হাজার, স্পেনে ৮০ হাজার, জার্মানিতে ২০ হাজার, দক্ষিণ আফ্রিকায় ১০ হাজার, ফ্রান্সে ১২ হাজার, নেদারল্যান্ডসে ৭ হাজার, বেলজিয়ামে ছয় হাজার, সুইজারল্যান্ডে পাঁচ হাজার, ব্রাজিলে ২৫ হাজার, চীনে ১৫ হাজার, ইন্দোনেশিয়ায় ২০ হাজার, নিউজিল্যান্ডে আড়াই হাজার, রাশিয়ায় ছয় হাজার, তুরস্কে পাঁচ হাজার, সাইপ্রাসে সাত হাজার প্রবাসীসহ মোট ৪০টি দেশে এক কোটি ৪০ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩৪ প্রবাসী এনআইডি পাননি।
প্রবাসীদের এনআইডি দিতে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ওমান, কাতার, বাহরাইন, লেবানন, জর্ডান, লিবিয়া, সুদান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, ইতালি, হংকং, মিশর, ব্রুনাই, মরিশাস, ইরাক, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, গ্রিস, স্পেন, জার্মানি, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিল, চীন, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, নিউজিল্যান্ড, রাশিয়া, তুরস্ক ও সাইপ্রাসে কার্যক্রম চালাবে নির্বাচন কমিশন। এসব দেশের প্রবাসীদের এনআইডি দেওয়ার কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় মেশিন নিয়ে সেসব দেশে যেতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। অনলাইনে আবেদন করলেও প্রবাসীদের তথ্য যাচাই—বাছাইয়ের পর সেটি ঠিক থাকলে তাদের ফিঙ্গার প্রিন্ট ও চোখের আইরিশ নেওয়ার প্রয়োজন হবে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর মেয়াদে ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিয়া) দ্বিতীয় পর্যায়’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রকল্পের আওতায় প্রবাসে নিবন্ধন টিম পাঠানো ও বাংলাদেশি নাগরিকদের নিবন্ধন সংক্রান্ত ব্যয় হিসাবে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না থাকায় কাজ শুরু করা যায়নি, সেই টাকাও হচ্ছে না ব্যয়। কর্মকর্তারা জানান, প্রবাসীদের পরিচয় নিবন্ধনের জন্য চালু করা পোর্টালে এখন পর্যন্ত দুই হাজার ৫৫৩টি আবেদন পড়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে ২৩৯টি, সৌদি আরব থেকে ৯১২টি, সিঙ্গাপুর থেকে ১৫১টি, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৭৪১টি ও যুক্তরাজ্য থেকে ৪৮৫টি, মালদ্বীপ থেকে ছিল ২৫টি। যাচাই—বাছাই করে ৭০০ জনের কাগজপত্র ঠিক থাকায় তাদের আবেদনের অনুমোদন মিলেছে। যদিও অনেক প্রবাসী অভিযোগ করেছেন, এই পোর্টালে তারা ঢুকতেই পারছেন না, আবার কেউ কেউ আবেদনটিই সম্পন্ন করতে পারছেন না। এ কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যসহ কিছু দেশে যেহেতু আমাদের অনেক নাগরিক আছেন, সেখানে গিয়ে তাদের ভোটার তালিকায় এনে এনআইডি কার্ড করে দেওয়ার কথা আমাদের। বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। এটা যখনই ওনাদের সঙ্গে আমাদের ম্যাচ করে যাবে (মিলবে), ক্লিয়ারেন্স (অনুমোদন) পেয়ে যাবো, তখনই কাজটি হবে। বরাদ্দও আছে, আমাদের টিমও রেডি আছে, বিদেশে গিয়ে এনআইডির বিষয়ে কাজ করবে তারা। এ বিষয়ে আইডিয়া প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল কাশেম মো. ফজলুল কাদের বলেন, আমরা পরিকল্পনা করেছি এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি বছর আটটি দেশে যাবো। একটি জায়গায় টানাপোড়েন চলছে, দেখা যাচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যে ডিজি বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেবেন, তিনি আমাদের কাজটি সম্পন্ন করতে করতেই বদলি হয়ে গেছেন। আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতির অপেক্ষায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে আপনারা (এনআইডি উইং) যাবেন কেন, আমাদের (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) মেশিন দিয়ে দেন আমরাই করি, কিন্তু সেটা তো হয় না। সেটি করতে গেলে তো রোহিঙ্গাসহ বাইরের দেশের অনেকেই যুক্ত হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আমাদের যে স্ট্যান্ডার্ড আছে, সেটি হবে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারণেই এ কার্যক্রমে জটিলতা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনই তো মিলছে না। আমরা লন্ডনের সঙ্গে কাজ অনেকটাই এগিয়ে রেখেছি। সেখানে কোথায় কোথায় যাওয়া হবে, তাদের সঙ্গে মিটিংও হয়েছে। চিঠিপত্র আদান—প্রদান হয়েছে। কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি মিলছে না। একটা টিম গেলে মেশিন নিয়ে যাবে, কারণ তাদের অনুমতি না পেলে এই মেশিন দেশে ফেরত আনতে আবার ট্যাক্স দিতে হবে। কয়েকবার লন্ডন থেকে আমাদের তাগাদা দিয়ে চিঠি দিয়েছে। বিভিন্ন দেশের দুই হাজার ৫৫৩টি আবেদন পড়েছে, সেখান থেকে আমরা ৭০০ আবেদনের সমাধান করেছি। বাকিগুলোর নথিপত্র ঠিক নেই। কিছু ভুয়া আছে বলে মনে হয়েছে, সেগুলোকে আমরা দেইনি। তিনি বলেন, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে তথ্য নিয়েছি। এই ৪০টি দেশে সর্বমোট এক কোটি ৪০ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩৪ জন এনআইডি ছাড়া রয়েছেন। তারা বাংলাদেশি, কিন্তু বিদেশে এনআইডি ছাড়া বসবাস করছেন। এটি বাড়বে—কমবে। আমাদের সঙ্গে লন্ডন, কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে যোগাযোগ করছে। বলেছি আমাদের পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও একটি চিঠি দিন। কারণ তাদের অনুমতি ছাড়া তো আমরা কোথাও যেতে পারবো না। যাওয়ার অনুমোদন হলে ৪০টি দেশের জন্য একটি পোর্টাল ওপেন করে দেবো এবং একটি সাকুর্লার দেবো।
বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, প্রবাসীদের ভোটার করার সংস্কৃতি বিশ্বের প্রায় সব দেশেই আছে। তারা দেশে থাকুন বা দেশের বাইরে থাকুন, তারা তো আমাদের দেশের নাগরিক। সমস্যাটা হলো প্রবাসী যারা আছেন, তারা তো সেই স্বাধীনতার পর থেকে যাচ্ছেন (প্রবাসে), এনআইডির কাজটি শুরু হয়েছে ২০০৭ বা ২০০৮ সালে। এরপর অনেকেরই এনআইডি নেই। এটি পাওয়া সবার অধিকার। আমাদের যে এক কোটি প্রবাসী আছেন, তাদের এনআইডি দেওয়াটা দায়িত্ব মনে করি। কারণ এনআইডি না থাকার কারণে তারা নানান ধরনের সংকটে পড়েন। পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধনসহ নানা ক্ষেত্রে তারা দুর্ভোগে পড়েন। আমাদের দেশে জন্মের পরপরই প্রত্যেক নাগরিককে একটি নম্বরের আওতায় আনা যায় কি না, যে নম্বর ভবিষ্যতে তার জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক কার্ড হবে। সারাবিশ্বেই এই সংস্কৃতি আছে। প্রত্যেকের একটা নম্বর থাকে। আমি মনে করি সেই জিনিসগুলো মাথায় রেখে নির্বাচন কমিশন যদি একটি প্রকল্প নিয়ে সবাইকে জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়, এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হবে। প্রথমে তাদের পরিচয়পত্র দেওয়া হোক, এরপর তারা কীভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে সেটি আলোচনার মাধ্যমে নিশ্চয়ই একটা উপায় বের হবে।
এনআইডি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা বা যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক অন্য দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে থাকলে তাদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা কঠিন করার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিশেষ করে যারা উন্নত দেশগুলোর নাগরিকত্ব নিয়েছেন বা নেবেন বলে ভাবছেন বেকায়দায় পড়তে পারেন তারা। যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউক্রেন, ভারতসহ বেশ কিছু দেশের ‘এক নজরে’ তালিকা করেছে নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে এসব দেশে বসবাসকারী কেউ এনআইডি সেবা নিতে এলেই পড়তে পারেন ঝামেলায়। কেননা, বাংলাদেশি নাগরিকত্ব স্বেচ্ছায় ত্যাগ করেছেন এমন ১ হাজার ৩৩৮ জনের তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সংগ্রহ করে তৈরি করা হয়েছে ওই ‘এক নজরে’ তালিকাটি। কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো ব্যক্তি যদি এমন কোনো দেশে বসবাস করেন, কিন্তু নাগরিকত্ব নেননি, এমন ব্যক্তিও যদি এনআইডি সেবা নিতে আসেন, তবে ওই তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে যে—সংশ্লিষ্ট দেশের আইনে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছেড়ে দেওয়ার বিধান রয়েছে কি—না। যদি সেই বিধান থাকে, তবে ওই ব্যক্তিকে প্রমাণ দিতে হবে যে, তিনি নাগরিকত্ব নেননি। এক্ষেত্রে যারা স্বেচ্ছায় নাগরিকত্ব ছেড়েছেন, তাদের ওপর ভিত্তি করে এমন সিদ্ধান্ত নিলে প্রবাসীদের সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হবে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এনআইডি মহাপরিচালক একেএম হুমায়ুন কবীর এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছেন। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা বিভিন্ন অফিস আদেশ, এসআরও এবং ওই ‘এক নজরে’ তালিকার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিভিন্ন সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশে বলা হয়েছে— “কোনো বাংলাদেশি নাগরিক অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলেও অস্ট্রেলিয়ার ঈরঃরুবহংযরঢ় অসবহফসবহঃ অপঃ, ১৯৯৩ এবং নিউজিল্যান্ডের নাগরিকত্ব এ্যাক্ট, ১৯৭৭ এ যথাক্রমে অস্ট্রেলিয়ান এবং নিউজিল্যান্ডের নাগরিকত্ব গ্রহণের জন্য পঠিতব্য শপথ বাক্যে নিজ দেশের আনুগত্য প্রত্যাহারের শপথ না থাকায় বাংলাদেশ নাগরিকত্ব (অস্থায়ী বিধানাবলী) আদেশ, ১৯৭২ এর ২(বি) (২) ধারার দ্বৈতনাগরিকত্ব বর্ণনামতে তাদের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব অক্ষুণ্ণ থাকবে। এমতাবস্থায়, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের নাগরিকত্ব গ্রহণকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণের প্রয়োজন নেই। এক্ষেত্রে ওই দুই দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণকারীরা ইচ্ছা করলে তাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট সংরক্ষণ ও ব্যবহার করতে পারবেন। যারা অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন তাদের নামেও পুনরায় বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়া যাবে। এদিকে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং ও জাপানের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে—এসব দেশের নাগরিকত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে শপথ বাক্যে নিজ আনুগত্য ছেড়ে দেওয়ার কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই।
এক্ষেত্রে —(ক) বাংলাদেশের বলবৎ আইন অনুযায়ী কোনো বাংলাদেশের নাগরিক উল্লিখিত দেশসমূহের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলেও সে সব দেশের নাগরিকত্ব প্রাপ্তির জন্য পঠিতব্য শপথ বাক্যে যদি নিজ দেশের (বাংলাদেশের) আনুগত্য প্রত্যাহার—এর শপথ না থাকে, তাহলে তার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বহাল থাকিবে।
(খ) ওইরূপ পরিস্থিতিতে উল্লিখিত দেশেসমূহের নাগরিকত্ব গ্রহণকারী বাংলাদেশের নাগরিকদের বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণের প্রয়োজন হবে না।
(গ) উল্লেখিত দেশসমূহের নাগরিকত্ব গ্রহণকারী সব বাংলাদেশি ইচ্ছা করলে তাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট সংরক্ষণ ও ব্যবহার করতে পারবেন;
(ঘ) তাদের পাসপোর্টের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে তা যথারীতি নবায়ন করতে হবে; এবং
(ঙ) ইতোপূর্বে যারা উল্লেখিত দেশ সমূহের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন তাদের নামেও পুনরায় বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়া যাবে।
কর্মকর্তারা বলছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এমন আদেশ জারির পরও এনআইডি বিভাগ ‘এক নজরে’ নামে যে তালিকাটি তৈরি করেছে, তা আমলে নেওয়া হলে হয়রানি বাড়বে। কেননা, ওই তালিকায় যে দেশ রয়েছে, সেসব দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে স্বেচ্ছায় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছেড়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রবাসীরা বা বিভিন্নভাবে বাংলাদেশি নাগরিকরা অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে থাকলেও বাংলাদেশে তাদের সম্পদ রয়েছে। এক্ষেত্রে এনআইডি ছাড়া সেসব সম্পদে বন্টন বা কোনো সুরাহা হয় না। এছাড়াও অনেকের পরিবার এবং বাবা—মা দেশে থাকেন, তাদের জন্য সেবা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এনআইডি প্রয়োজন পড়ে। তাই অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণকারী যে কোনো ব্যক্তিরই রয়েছে অবাধে এনআইডি সেবা পাওয়ার। এদিকে দেশের নাগরিকদের এনআইডি সেবা দিতে কড়াকড়ি করা হলেও বিদেশিদের সেবা দেওয়ার বিষয়েও কিছু নির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে এনআইডি মহাপরিচালকের ওই প্রতিবেদেনে।
বর্তমানে ইসির সার্ভারে ১১ কোটি ৩২ লাখ নাগরিকের তথ্য রয়েছে। গত ২০ মে থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শুরু করেছে ইসি। তবে হালনাগাদের অজুহাতে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সেবা থেকে কোনো প্রবাসীকে বঞ্চিত করা যাবে না বলে জানিয়েছে এনআইডি অনুবিভাগ। ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য ২০মে থেকে প্রথম ধাপে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করার কাজ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ১১ মে ইসির সহকারী সচিব মো. মোশাররফ হোসেনের সই করা এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা সকল উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হালনাগাদের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের নতুন অন্তভুর্ক্তি এবং অন্যান্যদের কার্যক্রম চলমান রাখতে হবে। হালানাগাদ কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহকারীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। কোনো প্রবাসী ভোটার বা অন্য কোনো ভোটার নতুন অন্তভুর্ক্তি, স্থানান্তর, কর্তন বা জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে হাজির হলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল সাপেক্ষে এসব কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই হালনাগাদের অজুহাতে অফিসের এসব কার্যক্রম বন্ধ রাখা যাবে না।

Facebook Comments Box

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১