মঙ্গলবার, ১৭ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

সব

Singapore
Corona Update

Confirmed Recovered Death
59,879 59,746 29

Bangladesh
Corona Update

Confirmed Recovered Death
543,717 492,059 8,356

বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার গতি ধরে রাখতে হবে —প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক | ২৭ মার্চ ২০২২ | ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার গতি ধরে রাখতে হবে —প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ যে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, সেই গতি ধরে রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে কখনো কেউ ছিনিমিনি খেলতে পারবে না। বাংলাদেশ যে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তা আমাদের ধরে রাখতে হবে। মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সমাপনী উপলক্ষে গতকাল ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত ‘জয় বাংলার জয়োৎসব’ শিরোনামে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠান উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন সরকারপ্রধান।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আহ্বায়ক ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সদস্য সচিব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খাজা মিয়া বক্তব্য রাখেন। পরে মুক্তিযুদ্ধ কনসার্টসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে যেন কেউ অবহেলা করতে না পারে। বাংলাদেশের মানুষ যেন বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে চলতে পারে। শিক্ষা-দীক্ষা-প্রযুক্তি জ্ঞান সবদিক থেকে যেন আমরা এগিয়ে থাকতে পারি। সুবর্ণজয়ন্তীর পথ ধরে আমরা এগিয়ে যাব। শতবর্ষ উদযাপন করবে আমাদের আগামী দিনের প্রজন্ম। তারা এটা করবে ২০৭১ সালে। তাদের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে এবং আমাদের বর্তমানকে আগামী প্রজন্মের জন্য উৎসর্গ করছি।

তিনি বলেন, জাতির পিতা স্বাধীনতার পর দেশে ফিরেই একটি স্বাধীন রাষ্ট্র কীভাবে চলবে তার দিকনির্দেশনা ঘোষণা করেন। জাতির পিতা শুধু স্বাধীনতা দেননি, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলেছিলেন। ঘুণে ধরা সমাজ ব্যবস্থা ভেঙে নতুন সমাজ গড়ার ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। তৃণমূল মানুষ যেন ক্ষমতাসীন হন সেই ব্যবস্থা তিনি নিয়েছিলেন। ঠিক সেই সময় এল চরম আঘাত। মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন তিনি। এরপর অন্ধকারের যাত্রা শুরু। বাংলাদেশ হারিয়ে ফেলে তার স্বাধীনতার চেতনা, জয় বাংলার স্লোগান। ৭ মার্চের ভাষণ হয় নিষিদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর নাম ও ছবি নিষিদ্ধ হয়। ২১টি বছর এভাবে বাংলাদেশের বিজয় ইতিহাসকে পদদলিত করা হয়। একটি মন্দ ইতিহাস ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারে না। সত্যের জয় হবেই। আজ সেটাই হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের ৫০ বছরের মধ্যে একটি সময় ছিল বিজয় অর্জন ও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার। তারপর আরেকটি অধ্যায় হলো ২১ বছরের শোষণ-বঞ্চনা। হত্যা-ক্যু অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের রাজনীতি। ৫০ বছরের মধ্যে ২৯ বছর কিন্তু উন্নয়ন হয়নি। কেবল জাতির পিতার ক্ষমতাকাল এবং ১৯৯৬ সালে মানুষ কিছুটা উন্নয়নের ছোঁয়া পায়। আজ আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। আমার প্রতিটি ঘর আলোকিত করেছি। এ দেশের একটি মানুষও ভূমিহীন থাকবে না, গৃহহীন থাকবে না। আমরা এটাও নিশ্চিত করব। এ পথে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে আহ্বান থাকবে আমরা পরিকল্পনা দিয়ে গেছি ২০৪১ সালের বাংলাদেশ কেমন হবে। ২১০০ সালের ডেল্টা প্ল্যান আমরা করেছি। এ দেশের মানুষ কীভাবে উন্নত জীবন পাবে, সেই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের পরিকল্পনা।

এদিকে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা গ্রহণ ও প্রেরণ কেন্দ্র সলিমপুর ওয়্যারলেস স্টেশন বিষয়ে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল গণভবনে এক অনুষ্ঠানে ১০ টাকার স্মারক ডাকটিকিটের পাশাপাশি ১০ টাকার উদ্বোধনী খাম ও পাঁচ টাকার ডাটা কার্ড অবমুক্ত করেন তিনি। এ উপলক্ষে একটি বিশেষ সিলমোহর ব্যবহার করা হয়। অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) সিনিয়র সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব মো. খলিলুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মহান স্বাধীনতা দিবস এবং জাতীয় দিবস উপলক্ষে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যের শুভেচ্ছা উপহার পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল রাজধানীর মোহাম্মদপুরে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্রে (মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১) যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের তিনি ফল ও মিষ্টান্ন পাঠিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকু এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এবিএম সরওয়ার-ই-আলম সরকার প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে উপহারসামগ্রী হস্তান্তর করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, পবিত্র ঈদ এবং বাংলা নববর্ষের মতো প্রতিটি রাষ্ট্রীয় দিবস এবং উৎসবে তাদের স্মরণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির পিতার কন্যার নেতৃত্বে দেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তারা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বর্ধিত হারে ভাতা প্রদান এবং আবাসনের সুব্যবস্থা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যসহ উপস্থিতরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

Facebook Comments Box

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১