মঙ্গলবার, ১৭ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

সব

Singapore
Corona Update

Confirmed Recovered Death
59,879 59,746 29

Bangladesh
Corona Update

Confirmed Recovered Death
543,717 492,059 8,356

সহিংসতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নিউজ ডেস্ক | ১৮ নভেম্বর ২০২১ | ১:১১ অপরাহ্ণ
সহিংসতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ইউনিয়ন পরিষদ (্ইউপি) নির্বাচনে যারা সহিংসতায় জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ডিজেলের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ, সারসহ বিভিন্ন খাত মিলিয়ে বছরে ৫৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। আর কত ভর্তুকি দেবে। জনগণের দুঃখ-দুর্দশার বিষয়টি উপলব্ধি করেন জানিয়ে তিনি বলেন, দেশ আমি চালাচ্ছি আমাকে দায়িত্ব নিতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে অনুমতি দেওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার জন্য যা করার করেছি। বাকিটা আইন অনুযায়ী চলবে। গতকাল বুধবার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে প্রধানমন্ত্রীর দুই সপ্তাহের সফরের অভিজ্ঞতা জানাতে এ ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করা হয়। ঘণ্টাখানেক চলা এ সংবাদ সম্মেলনে জলবায়ু সম্মেলন ছাড়াও ইউপি নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবন প্রান্তে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিসহ কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক, কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রাঙ্গণে সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগ নেতা এবং কার্যালয়ের কর্মকর্তা ছিলেন।
এবারের ইউপি নির্বাচনে সহিংসতায় এরই মধ্যে ৪৬ জনের প্রাণহানির বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে নির্বাচনী সহিংসতা অনেক কমিয়ে আনা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা আগেও হয়েছে। তবে কোনো প্রাণহানি হোক, আমরা কখনো চাই না। এটি হওয়া উচিত নয়। এটা যেখানে যেখানে ঘটেছে সেখানে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমাদের যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, সেটা কিন্তু রক্ষা করে যাচ্ছি। অনেক ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় সহিংসতা বাড়ছে বলে মনে করা হয়। এ অবস্থায় দলীয় প্রতীক বরাদ্দ না করে প্রার্থিতা উন্মুক্ত করা হবে কিনা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শুধু চেয়ারম্যান পদে (দলীয়) প্রতীক দিচ্ছি। মেম্বার পদে কোনো প্রতীক নেই। আপনারা যদি ঘটনাগুলো দেখেন, মেম্বারদের মধ্যেও গোলমাল। তাদের মধ্যেও কাটাকাটি। শুধু যে চেয়ারম্যানকে প্রতীক দিচ্ছি দেখেই মারামারি তা কিন্তু নয়।
বিএনপিসহ কিছু দল দলীয়ভাবে নির্বাচন না করলেও তাদের নেতারা যে অনেক জায়গায় স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছেন, তা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যাদের মনোনয়ন দিয়েছি, এর বাইরে গিয়ে যারা নির্বাচন করেছে, যতই ভালো প্রার্থী হোকÑ যারাই দলের বাইরে গিয়ে কাজ করেছে, আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব। আমরা কিন্তু ছাড়ব না। কিন্তু এদের বাইরে যারা নির্বাচনে হানাহানি করল, এখন তো তারা দলীয়ভাবে নির্বাচনে আসছে না, সে দিক দিয়ে তারা চালাকিটা ভালোই করল। নির্বাচনও করছে মারামারিও করছে। উসকেও দিচ্ছে, আবার বিজয়ীকে সমর্থন দিয়ে আরেকটা মারামারি বাধিয়ে দিচ্ছে। কাজেই সেটাও দেখতে হবে।
ডিজেলের দাম কমানোর পরিকল্পনা আছে কিনা এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে বিদেশ থেকে ডিজেল কিনে আনতে হয়। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে বলেই দেশেও দাম বাড়াতে হয়েছে। জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ, সারসহ বিভিন্ন খাত মিলিয়ে সরকারকে বছরে ৫৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়। সরকার আর কত টাকা ভর্তুকি দিতে পারবে? বাজেটের সব টাকা তাহলে ভর্তুকিতে দিয়ে দেব। তা হলে কিন্তু সব উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে। জনগণের প্রতি দায়িত্ব সম্পর্কে আমরা সব সময় সচেতন। করোনার মধ্যে এমন কোনো শ্রেণিপেশার মানুষ নেই, যাদের আমরা নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা করিনি। একবার না বারবার দিয়েছি। সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের উপায়টা কী? উপার্জনটা কী? আমাদের কী সম্পদ আছে? কর না দেওয়া এবং কর ফাঁকির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ট্যাক্সটা ফাঁকি দেওয়ার দিকেই সবার নজর। তা হলে টাকাটা আসবে কোথা থেকে? তা হলে কি দেউলিয়া হয়ে যেতে হবে? মানুষের যাতে কষ্ট না হয়, খাবারের কষ্ট না হয়, সেদিকে আমাদের নজর আছে। এসব ভেবে দেশ চালাচ্ছি। দেশের ভালোর কথা ভেবে দায়িত্ব আমাকেই নিতে হবে।
খালেদা জিয়ার প্রতি মানবতা দেখিয়েছি
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার সুযোগ সরকার দেবে কিনা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার প্রতি আমি মানবতা দেখিয়েছি। তাকে যে কারাগার থেকে বাসায় থাকতে দিয়েছি, চিকিৎসা করতে দিয়েছি, এটিই কি বেশি নয়? আপনাকে যদি কেউ হত্যার চেষ্টা করত আপনি কি তাকে গলায় ফুলের মালা দিয়ে নিয়ে আসতেন? বা আপনার পরিবারকে যদি কেউ হত্যা করতেন সেই হত্যাকারীদের বিচার না করে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিত তাদের জন্য আপনি কী করতেন?
তিনি আরও বলেন, ছিয়ানব্বাই সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ইলেকশনে হত্যাকারীকে পার্লামেন্টে বসানো। যেখানে আমি বিরোধীদলীয় নেতা ছিলাম সেখানে বসানো হলো কর্নেল রশীদকে। কে করেছিল? খালেদা জিয়া। খায়রুজ্জামান আসামি, তার মামলার রায় হবে, চাকরি নাই। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে সেই আসামিকে চাকরি দিলেন ফরেন মিনিস্ট্রিতে। অ্যাম্বাসেডর করে পাঠালেন। পাশা একজন খুনি। সে সেনাবাহিনীর অফিসার ছিল। মারা গেছে। ক্ষমতায় এসে মৃত ব্যক্তিকে প্রমোশন দিয়ে তার অবসর ভাতা-টাতা সব দিয়ে দিল। আর গ্রেনেড হামলার পর বলে দিল কী! আমি ভ্যানিটি ব্যাগে গ্রেনেড নিয়ে গিয়ে আত্মহত্যা করতে নিজেই নিজেকে গ্রেনেড মেরেছিলাম। গ্রেনেড হামলায় ২২ জন লোক মারা গেছে, একদিন পার্লামেন্টে সেটা নিয়ে আলোচনা করতে দেয়নি। এত বড় অমানবিক যে, তাকেই আমি মানবতা দেখিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, কোটালিপাড়ায় বোমা যখন পোঁতে, তার আগে তার (খালেদা জিয়া) বক্তৃতা কী ছিলÑ শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা বিরোধীদলীয় নেতাও হতে পারবেন না। বলেছিল, কারণ মরেই তো যাব। কিন্তু রাখে আল্লাহ মারে কে! এতকিছুর পরও খালেদা জিয়ার প্রতি দয়া দেখাতে আপনারা বলেন! কেউ এই প্রশ্ন করলে আমার মনে হয় আপনাদের একটু লজ্জা হওয়া উচিতÑ এ কথাটা অন্তত আমাকে বলার…। যারা আমার বাপ-মা, ভাই-বোন… এমনকি আমার ছোট রাসেলকে পর্যন্ত হত্যা করিয়েছে। এর পরও আমরা অমানুষ নই। অমানুষ না দেখেই আমার এক্সিকিউটিভ অথরিটি হাতে যতটুকু আছে ততটুকু দিয়েই তাকে বাসায় থাকার, চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। বাকিটা আইনগত ব্যাপার।
টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ক্রিকেটাররা আমাদের হতাশ করেছে এ থেকে উত্তরণের উপায় কী এ রকম এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেন, আপনি এত হতাশ হন কেন? আমি এই হতাশা দেখতে চাই না। কয়েকটা খেলা তো তারা খুব চমৎকার খেলেছে। তাই কথায় কথায় এত হতাশ হওয়া তো ঠিক নয়।
করোনার টিকা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এখন পর্যন্ত ৮ থেকে ৯ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ২৫ কোটি ডোজ কেনা হয়েছে। ভ্যাকসিন নিয়ে আমাদের কোনো অসুবিধা হবে না। কেউ বাদ যাবে না। ভ্যাকসিন অনেক দাম দিয়ে কিনতে হয়। শুধু করোনার টেস্ট বাবদ খরচ হয় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা।
আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার ফুফাতো ভাই ফিরোজ কবীরসহ ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর সেনাসদস্য ও অনেক সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকা-ে জিয়াউর রহমান নিজেই জড়িত। আমরা হত্যাকা-ের বিচারের উদ্যোগ নেব। ১৯৭৭ সালে যাদের জেলখানায় ফাঁসি দেওয়া হয়েছে তাদের তালিকা হয়তো পাওয়া যাবে। কিন্তু সেনা আইনে যেসব সেনা সদস্যের শাস্তি বা ফাঁসি হয়েছে তার তালিকা পাওয়া যাবে কিনা জানি না। তবে আমরা এ ঘটনার বিচার করব।
প্রধানমন্ত্রী ৩১ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত গ্লাসগো, লন্ডন ও প্যারিস সফর করেন। সফরকালে তিনি কপ-২৬ সম্মেলন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলন, ইউনেস্কো সদর দপ্তরে সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য ইউনেস্কো-বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান, ইউনেস্কোর ৪১তম সাধারণ সম্মেলন, প্যারিস শান্তি ফোরাম, ইউনেস্কোর ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনে অবহিত করেন।

Facebook Comments Box

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১