মঙ্গলবার, ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সব

Singapore
Corona Update

Confirmed Recovered Death
59,879 59,746 29

Bangladesh
Corona Update

Confirmed Recovered Death
543,717 492,059 8,356

করুণতম পরিস্থিতির কাছাকাছি চলে এসেছি: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

স্বাস্থ্য ডেস্ক | ১৪ জুলাই ২০২১ | ৯:৪১ অপরাহ্ণ
করুণতম পরিস্থিতির কাছাকাছি চলে এসেছি: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর্যবেক্ষণ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমান সময়ের করুণতম পরিস্থিতির কাছাকাছি আমরা চলে এসেছি। যেখানে সংক্রমণের মাত্রা ও মৃত্যু ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বুধবার দুপুরে করোনার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত ভার্চুয়াল বুলেটিনে অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মো. রোবেদ আমিন এ কথা বলেন। স্বাস্থ্যবিধি পালনে উদাসীন হলে দেশে করোনা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, গত বছর থেকে বিভিন্ন ধরনের ভ্যারিয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট ও ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন নিয়ে বাংলাদেশ সংগ্রাম করে যাচ্ছে। আমরা পর্যবেক্ষণ করছি, বর্তমান সময়ের করুণতম পরিস্থিতির কাছাকাছি আমরা চলে এসেছি। যেখানে সংক্রমণের মাত্রা ও মৃত্যু ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা সক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা করে যাচ্ছি। এর একটি মূল জায়গা হলো টেস্ট। আমরা টেস্টের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছি।

ডা. রোবেদ আমিন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে আমরা দুই শ-এর উপরে মৃত্যু দেখতে পাচ্ছি। এক দিনে শনাক্তের হারও অনেক বেশি এখন প্রায় ২৯ দশমিক ২১ শতাংশ। প্রথম থেকে হিসাব করলে ১৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। আমাদের মৃত্যুর হারও বাড়ছে। গত দুই সপ্তাহে ঢাকায় এবং খুলনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে। প্রথম থেকে হিসাব করলে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা ও চট্টগ্রামে। সংক্রমণের মাত্রা বরিশাল ও চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি।

তিনি বলেন, বরিশালে গত এক সপ্তাহে শনাক্তের হার সবচেয়ে বেশি। গত এক সপ্তাহে ১১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চট্টগ্রামে ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। ঢাকায় অন্যান্য বিভাগের চেয়ে ২৫ শতাংশ কম। রাজশাহীতে সবচেয়ে কম যেখানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাধ্যমে সংক্রমণের ঢেউ আমরা সবচেয়ে আগে দেখেছিলাম। সেখানে এখন মাত্রা ১৫ শতাংশ। এর কারণে হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে আদর্শ বলা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে যে পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছিল, প্রশাসন সহায়তা করেছে এবং প্রান্তিক মানুষ স্বাস্থ্যবিধি পালন করেছে— দুই থেকে তিন সপ্তাহের স্থানীয় কঠোর লকডাউনের মাধ্যমে তারা ৭২ শতাংশ থেকে সংক্রমণের হার ১৩ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে তা কঠোরভাবে পালন করলে সংক্রমণের মাত্রা কমিয়ে আনা সম্ভব। সারা বাংলাদেশে গত সাত দিনের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, কিছুটা হলেও যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তার মাধ্যমে সংক্রমণের মাত্রা ৩২ শতাংশ থেকে ২৯ শতাংশে নেমে এসেছে।

জুলাই মাস অত্যন্ত কঠিন মাস। জুনে এক লাখ ১২ হাজার ৭১৮ রোগী শনাক্ত করা হয়েছিল। জুলাইয়ের ১৪ দিনে আমরা এত রোগী পেয়ে গেছি। এই মাসের আরও ১৬ দিন বাকি আছে। যেহেতু সংক্রমণের মাত্রা এখন অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে, স্বাস্থ্যবিধি ও প্রতিরোধে ব্যবস্থা যদি না নেওয়া হয়, দুই সপ্তাহ পর্যন্ত কিন্তু টানা এভাবে চলতে পারে। মৃত্যু তিন সপ্তাহ পর্যন্ত এভাবে চলতে পারে। হাসপাতালে যদি আর নতুন রোগীকে জায়গা দেওয়া না যায় তাহলে আমরা সবাই বিপদে পড়ে যাব, বলেন ডা. রোবেদ আমিন।

তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্দেশে পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চলমান বিধি-নিষেধ ১৫ থেকে ২২ জুলাই আট দিনের জন্য শিথিল করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মনে করে এই বিধি-নিষেধ শিথিল করা সাপেক্ষে আমাদের সংক্রমণ বৃদ্ধি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যেন গণপরিবহন, বাজার ও পশুরহাট এবং শপিং মলগুলো খোলা রাখা হয় সেটা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বারবার কঠোরভাবে বলার চেষ্টা করছে। পরিবহনে যাত্রীর সংখ্যা অর্ধেক করা না হলে সংক্রমণের মাত্রা কমার কোনো সুযোগ থাকবে না। ঢাকায় ১৭ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত কোরবানির পশুরহাট বসবে, সেখানে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সংক্রমণ বাড়তে পারে। তাই বিধি-নিষেধ শিথিল করা হোক বা না হোক, আমাদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতেই হবে।

Facebook Comments Box

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১