মঙ্গলবার, ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সব

Singapore
Corona Update

Confirmed Recovered Death
59,879 59,746 29

Bangladesh
Corona Update

Confirmed Recovered Death
543,717 492,059 8,356

ফেসবুক তান্ত্রিক-কবিরাজের বিজ্ঞাপনে প্রবাসীদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক | ১৩ জুলাই ২০২১ | ৭:১৪ অপরাহ্ণ
ফেসবুক তান্ত্রিক-কবিরাজের বিজ্ঞাপনে প্রবাসীদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

ফেসবুকে ‘কালো জাদু তন্ত্র মন্ত্র বশীকরণ’ নামে একটি পেজ খুলে স্বঘোষিত কবিরাজ, বৈদ্যের তদবির আর বশীকরণ বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে প্রবাসীদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘কালো জাদু তন্ত্র মন্ত্র বশীকরণ’ পেইজে দেখা যায় বেশ কিছু আইডি থেকে তাবিজ, তদবির ও বশীকরণের বিভিন্ন প্রচার প্রচারণা করা হয়েছে।

এগুলোর মধ্যে- ‘কুফরি তান্ত্রিক মহনপাল’, ‘মহাবিদ্যা কবিরাজি চিকিৎসা’, ‘জিন যাদুর চিকিৎসা’, ‘রুকঈয়াহ চিকিৎসা সেন্টার’, ‘আধ্যাত্মিক সাধু সন্ন্যাসী’, ‘জ্যোতিষী জয়নাল আহমেদ’, ‘শাধু বাবা’, ‘কাঙাল সাধু’, ‘মহাকাল তান্ত্রিক কামাক্ষা’, ‘সানি চিশতি’, ‘কবিরাজ কবির খন্দকার’, ‘তান্ত্রিক ওস্তাদ বেলাল’, ‘তান্ত্রিক সিরাজ সাহ’ ও ‘কবিরাজি ঘর কবিরাজ’ নামে আইডিগুলো থেকে একাধিক পোস্ট রয়েছে সেখানে। এসব বিষয়ে আরও তথ্য পেতে ফেসবুকে সার্চ করে দেখা যায়, আধ্যাত্মিক বান, বশীকরণ আর তন্ত্রমন্ত্রের আরও অনেক গ্রুপ ও পেইজ রয়েছে, যেখানে প্রবাসীদের ঠকিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র।

ফেসবুকে তদবির ও বশীকরণের বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করেন দুবাই প্রবাসী আনিস (ছদ্মনাম)। প্রিয় মানুষকে নিজের কাছাকাছি রাখতে তিনি এক বৈদ্যের শরণাপন্ন হন। তার কাজ শতভাগ সফলতার সঙ্গে করে দেওয়ার আশ্বাস দেন রাজশাহীর সুমন রায় বৈদ্য। আনিস উক্ত নম্বরে প্রথম দফায় টাকা বিকাশ করলে কথিত বৈদ্য তাকে দুই দিন পর পুনরায় আবার টাকা পাঠাতে চাপ দেন। দ্বিতীয় দফায় টাকা পাঠানোর পর অর্থ প্রাপ্তির বিষয়টি অস্বীকার করে ওই বৈদ্য। আনিস বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। দুবাই প্রবাসী সজিবের (ছদ্মনাম) সাথে প্রতারণার কৌশল ছিল ভিন্ন।

‘তান্ত্রিক জগতের সম্রাট’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে নীলফামারীর আলী কবিরাজ তাকে জানায় কাজের আগে কোনো টাকা গ্রহণ করে না। তবে কাজ শুরুর আগে কিছু জিনিসপত্র কিনতে টাকা দিতে হয়। সজিব কবিরাজের কথামত একটি মোবাইল ফোন নম্বরে বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠায়। এরপর তিন দিন, পাঁচ দিন এভাবে সময়ে চলে যায় কিন্তু কোনো ফলাফল পায় না সজিব। তিনিও বুঝতে পারেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখে প্রতারিত হয়েছেন।

আনিস ও সজিবের মত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন একাধিক ভুক্তভোগী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পাওয়া এসব বিজ্ঞাপন দেখে কবিরাজ-বৈদ্যের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা তিন থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে শতভাগ ফলাফল দেওয়ার নামে নির্দ্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দাবি করে। এর জন্য ব্যবহার করা হয় বিকাশ নম্বর। প্রথম দফায় টাকা পাঠানোর পর ‘আরও চালান লাগাবে’ উল্লেখ করে যথাক্রমে টাকার পরিমাণ বাড়ায় এসব প্রতারক চক্র। টাকা দিয়ে দেওয়ার পর কাজ আদায়ের জন্য বলা হলে একপর্যায়ে ভুক্তভোগীদের ফোন নম্বর ব্লক করে দেয় এসব প্রতারক চক্র। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

প্রবাসীরা বলেন, সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এসব প্রতারক চক্রকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাচ্ছি। তা না হলে দিনে দিনের এদের অপরাধমাত্রা বাড়বে আর প্রতারিত হবেন সাধারণ প্রবাসীরা।

 

Facebook Comments Box

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১