মঙ্গলবার, ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সব

Singapore
Corona Update

Confirmed Recovered Death
59,879 59,746 29

Bangladesh
Corona Update

Confirmed Recovered Death
543,717 492,059 8,356

জিয়া হত্যাকান্ড সম্পর্কিত কিছু অমীমাংসিত বিষয়

মোহাম্মদ আবু তৈয়ব | ০৮ জুন ২০২১ | ১০:১৭ অপরাহ্ণ
জিয়া হত্যাকান্ড সম্পর্কিত কিছু অমীমাংসিত বিষয়

আজ থেকে ৪০ বছর আগে ১৯৮১ সালের ৩০ মে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে তার কিছু জুনিয়র সহকর্মীর হাতে নিহত হন। জিয়ার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কয়েকজন অফিসারও হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন পুরো সময়টি আমি ঢাকা বেতারের অন্যতম একজন অনুষ্ঠান ঘোষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। জিয়া জাতির উদ্দেশে যতগুলো ভাষণ দিয়েছেন তার প্রতিটি আমি উপস্থাপন করেছি। একটি মাত্র ব্যত্যয় ঘটেছিল। ফলে ভাষণ প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে জিয়ার তৎকালীন প্রেস সেক্রেটারি কাফে খান ঢাকা বেতারের মহাপরিচালক ও আঞ্চলিক পরিচালককে ফোন করে তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছিলেন। ফলে ওই ভাষণের ক্লোজিং ঘোষণাটুকু আমাকেই করতে হয়েছিল।

জিয়ার শাসনামল ছিল প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং রাষ্ট্রক্ষমতার সংঘাতে পরিপূর্ণ। তখন প্রায় সময়ই আমাদের উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় হতো। আর জিয়ার প্রতিপক্ষ ক্ষমতা দখলের জন্য প্রায়ই ঢাকা বেতার আক্রমণ করত। এই সময়গুলোয় আমরা যারা ঢাকা বেতারে ব্যাচেলর ছিলাম তারা রাতের বেলায়ও তাৎক্ষণিক ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের জন্য বেতার ভবনে অবস্থান করতাম। বিশেষ করে একজন ঘোষক, একজন ডিউটি অফিসার, একজন প্যানেল অপারেটর, একজন টেকনিশিয়ানএ চারজনকে বাধ্যতামূলক ঢাকা বেতার ভবনে রাতযাপন করতে হতো। এর মধ্যে কয়েক দফা আমরা জিয়ার প্রতিপক্ষ সেনা সদস্যদের হামলার শিকার হয়েছি। একবার জিয়ার সৌদি আরব সফরকালে এ রকম একটি আক্রমণের মুখে আমাদের পড়তে হয়েছিল। গভীর রাতে একদল সেনা সদস্য হঠাৎ বেতার ভবনে প্রবেশ করে বেতারের দখল নেন এবং আমাদের বন্দি করেন। তারা আমাকে প্রশ্ন করলেন, আপনি কী করেন? আমি বললাম, লগ রাইটার। ডিউটি অফিসারকে প্রশ্ন করলেন, আপনি কী করেন? তিনি জবাব দেন, আমি টাইমকিপার। প্যানেল অপারেটর নিজেকে ক্লিনার পরিচয় দিয়ে কোনোমতে রক্ষা পেলেন। তারা মূলত ঢাকা বেতার ওপেন করে তাদের লোক দিয়ে ঘোষণা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় নাইন ডিভিশনের তৎকালীন প্রধান মেজর জেনারেল মীর শওকত আলী বীরউত্তম তার বাহিনী নিয়ে রেডিও পুনর্দখল করে আমাদের উদ্ধার করেন।

৩০ মে যেদিন জিয়া চট্টগ্রামে নিহত হন তার আগের দিন শুক্রবার তিনি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক শাহ আমানত জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে মুসল্লিদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘চট্টগ্রামকে আমি খুব ভালোবাসি, আপনারা আমাকে একখণ্ড জমি দিন। জীবনের বাকি অংশ আমি চট্টগ্রামে থেকে যাব।’ কাকতালীয়ভাবে এ কথা বলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর তার প্রথম কবর হয়েছিল চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায়! জিয়ার মৃত্যু, লাশ উদ্ধার, ঢাকায় এনে দাফন ও মেজর জেনারেল মঞ্জুর বীরউত্তমের গ্রেপ্তার এবং তার রহস্যজনক হত্যা– এ বিষয়গুলো খুব নিবিড়ভাবে জানার ও বোঝার সুযোগ হয়েছিল আমার। কারণ তখন দেশের প্রশাসন দুই জেনারেলের মধ্যে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। কুমিল্লা থেকে ঢাকা হয়ে উত্তরবঙ্গ ছিল এরশাদের নিয়ন্ত্রণে, আর কুমিল্লার কিয়দংশ, নোয়াখালী, শুভপুর ব্রিজ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল ছিল জেনারেল মঞ্জুরের নিয়ন্ত্রণে। ঢাকায় জেনারেল এরশাদের পক্ষে কর্নেল মুজিবের নেতৃত্বে রেডিও অনুষ্ঠান পরিচালনা করতাম আমি। ওদিকে জেনারেল মঞ্জুরের নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম বেতার পরিচালনা করতেন আমাদের সহকর্মী (মরহুম) ফজল ভাই। মঞ্জুর বাহিনী ফজল ভাইয়ের সামনেই বলেছে, ৩০ মে রাতেই ঢাকার পতন হবে, তখন ঢাকা বেতারের নিয়ন্ত্রণ আমরা নিয়ে নেব। তখন ফজল ভাই ঢাকায় আমার জীবন কীভাবে রক্ষা করা যায় এ নিয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। আর এদিকে ঢাকা বেতারের নিয়ন্ত্রণকারী সেনা অফিসাররা বলেছেন, আজ রাতেই চট্টগ্রাম ফল করবে, তাদের প্রত্যেককে আমরা হয় বন্দি না হয় হত্যা করব। এ কথা শুনেই আমি কর্নেল মুজিবকে অনুরোধ করলাম, প্লিজ, ডু নট হিট মাই কলিগ ফজল ভাই।

এভাবে আমরা পরস্পর পরস্পরকে রক্ষার চেষ্টা করেছিলাম। চট্টগ্রাম পতনের পর জেনারেল মঞ্জুরকে ধরার জন্য এরশাদের প্রশাসন প্রথমে ১ লাখ ও পরে ২ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে। এ সময় আমাদের কাছে খবর আসে জেনারেল মঞ্জুর এরশাদ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছেন। কিন্তু তাকে ধরা হচ্ছে না। এখানে সহজে অনুমান করা যায়, জেনারেল মঞ্জুরকে ধরার পুরস্কার বাবদ চট্টগ্রামের একটি মহল এরশাদের সঙ্গে দর-কষাকষি করছিল। এ কারণে আমি বেতারে জেনারেল মঞ্জুরকে ধরিয়ে দেওয়া বাবদ ২ লাখ বা ৩ লাখ টাকা ঘোষণা দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই কর্নেল মুজিবের অধস্তন লেফটেন্যান্ট মারুফ আমার হাতে একটি ঘোষণা ধরিয়ে দিয়ে বললেন, এক্ষুনি অনএয়ার করুন। আমি স্ক্রিপ্ট পড়ে দেখি সেখানে মঞ্জুরের মাথার দাম ৫ লাখ টাকা ঘোষণা করা হয়েছে। আমি এ ঘোষণা দেখে বিরক্ত হয়ে কর্নেল মুজিবের কাছে যাই, তিনি আমার সঙ্গে একমত হয়ে বলেন, আমার কিছু করার নেই, হাইকমান্ডের নির্দেশ। তখনকার হাইকমান্ড মানে জেনারেল এরশাদ। তিনি হটলাইনে ফোন করে জেনারেল এরশাদকে আমার আপত্তির কথা জানালে এরশাদ আমাকে চাইলেন, আমি ফোন ধরতেই অন্য প্রান্ত থেকে খুব শান্তভাবে জেনারেল এরশাদ আমাকে বললেন, ৫ লাখ টাকাই ঘোষণা করুন, এটাই সিদ্ধান্ত। পরবর্তী সময়ে আমার নিকটাত্মীয় ও জিয়া হত্যার অন্যতম আসামি মেজর গোলাম আলী আমাকে বলেছিলেন, ফটিকছড়ি থানার ওসি ৩১ তারিখ বিকেলে পরিবার-পরিজনসহ পলায়নপর মঞ্জুরকে এক ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠীর বাসার ভেতর থেকে গ্রেপ্তার করেছিলেন এবং তিনি তদবির করে মঞ্জুরকে ধরার পুরস্কারের টাকার অঙ্ক বাড়িয়ে নিয়েছিলেন। এই কুদ্দুস দারোগা ৫ লাখ টাকার বদৌলতে পরবর্তী সময়ে বড় মাপের গার্মেন্টস মালিক হয়েছিলেন। এমনকি ১৯৯৬ সালে বিজিএমইএর সভাপতি হয়েছিলেন। সভাপতি হয়ে তিনি একদিন বিজিএমইএ সদস্যদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। আমি তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছি। আমি সেদিন বিটিভির শেখ সালেককে দিয়ে কুদ্দুসের নেতৃত্বাধীন বিজিএমইএর সদস্যদের এই সাক্ষাতের নিউজ বিটিভির সংবাদে প্রচার হতে দিইনি। বিজিএমইএ সভাপতি কুদ্দুস বিটিভির রাত ১০টার সংবাদে তাদের নিউজ না দেখে বিটিভিতে ফোন করে জানতে পারেন যে আমি এটি বন্ধ করে দিয়েছি। কুদ্দুস তখন আমার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নালিশ করেছিলেন। পরদিন প্রধানমন্ত্রী আমাকে তার অফিসে ডেকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন, আমি কেন নিউজটির প্রচার বন্ধ করে দিয়েছি। আমি প্রধানমন্ত্রীকে ১৯৮১ সালের ৩১ মে সন্ধ্যার আগে কুদ্দুসের হাতে জেনারেল মঞ্জুরের গ্রেপ্তার বাবদ তার ৫ লাখ টাকা পুরস্কার লাভ এবং জেনারেল মঞ্জুরের ক্ষুধার্ত শিশুদের সামনে থেকে খাবারের প্লেট কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলার ঘটনাটি বর্ণনা করি। সবকিছু শুনে সেদিন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নীরবে তার চোখের পানি মুছেছিলেন। আমি নিঃশব্দে তার রুম থেকে বেরিয়ে এসেছিলাম।

মেজর গোলাম আলী আমাকে বলেছিলেন, গ্রেপ্তারের পর জেনারেল মঞ্জুর তাকে পুলিশে সোপর্দ করতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু কুদ্দুস তা না করে তাকে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেন। ক্লান্ত-বিধ্বস্ত জেনারেল মঞ্জুরকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের গেস্ট হাউজে নেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর সেখানে কর্নেল এমদাদ নামে একজন অফিসার প্রবেশ করেন। এরপর জেনারেল মঞ্জুরের আর কোনো খবর পাওয়া যায়নি। সম্ভবত সে রাতেই তাকে হত্যা করা হয়েছিল এবং কোনো নির্জন স্থানে তার দেহ পুঁতে ফেলা হয়েছিল। অন্যদিকে বলা হয়, জিয়াউর রহমানের লাশ পাওয়া গিয়েছিল চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায়। ফজল ভাইয়ের বর্ণনা অনুযায়ী একটি গর্তে তিনটি লাশ ছিল, তাদের কারোরই চেহারা চেনা যাচ্ছিল না। তার মধ্যে একটি লাশ অনুমান করে ঢাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল, এ লাশ যেন বেগম জিয়াকে দেখতে দেওয়া না হয়। ফলে বেগম জিয়া স্বামীর লাশের কফিনের পাশে আহাজারি করলেও কফিন খুলে স্বামীর লাশ তাকে দেখতে দেওয়া হয়নি। জাতি জানে না, সেটা আদৌ জিয়ার লাশ ছিল কি না!

২৯ তারিখ জিয়া যখন চট্টগ্রাম গেলেন, তার সফরসঙ্গী ছিলেন অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ও সারওয়ারী রহমান। তার মধ্যে বি. চৌধুরীর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল দোতলায় জিয়ার পাশের কক্ষে। সারওয়ারী ও নাজমুল হুদাকে থাকতে দেওয়া হয় দোতলারই অন্য দুটি আলাদা কক্ষে। কিন্তু জিয়া গভীর রাতে ক্যান্টনমেন্ট থেকে ফেরার পর বি. চৌধুরী তাকে বলেন, তিনি নিচে শোবেন, দোতলায় শোবেন না। ফলে তিনি নিচে চলে যান। অন্যদিকে নাজমুল হুদা জিয়াকে বলেন, আমি অনেক দিন পর চট্টগ্রাম এসেছি, এখানে আমার শালির বাসা আছে, আপনি অনুমতি দিলে আজ রাতটা আমি আমার শালির বাসায় কাটাতে চাই। আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে সারওয়ারীও কেটে পড়েন। ফলে সেদিন রাতে সেখানে জিয়া একাই ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর সকালে বি. চৌধুরীকেও সেখানে পাওয়া যায়নি। সারওয়ারী ও নাজমুল হুদারাও সেখানে আর ফেরেননি। এ বিষয়ে মেজর গোলাম আলী ও ফজল ভাই দুজনই আমাকে বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়া হত্যায় জেনারেল মঞ্জুরের বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা ছিল না। কারণ ৩০ মে রাতে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে চরম বাগ্বিতণ্ডা ও অসন্তোষের মধ্য দিয়ে কোনো মীমাংসা ছাড়াই প্রেসিডেন্ট জিয়া সার্কিট হাউজে ফিরে এসেছিলেন। এতে কিছু তরুণ অফিসার খুব ক্ষুব্ধ হন এবং জেনারেল মঞ্জুরের বাসায় এসে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা তাকে বলেন, আজ রাতের মধ্যে তারা জিয়া সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। এটাই তাদের শেষ সুযোগ। জেনারেল মঞ্জুর তাদের শান্ত করে ড্রয়িংরুমে বসিয়ে ভেতরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট জিয়ার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন এবং তার কাছে পরিস্থিতি তুলে ধরে আরেকটি বৈঠকের জন্য অনুরোধ করেন। জিয়া রাজি না হয়ে তাকে বলেন, সকালেই তাকে যে কোনো মূল্যে ঢাকায় ফিরতে হবে। জেনারেল মঞ্জুর তাকে বলেন, চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টের ইস্যুটা সবচেয়ে বার্নিং ইস্যু, এটা সমাধান করেই তার ঢাকায় যাওয়া উচিত। ফলে জিয়া সকালে বিমানের ফ্লাইটে না ফিরে মিটিং শেষে হেলিকপ্টারে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

মেজর গোলাম আলীর ভাষায়, সম্ভবত জেনারেল মঞ্জুরের সঙ্গে কথা বলার পর জিয়া ওই রাতে সর্বশেষ ঢাকায় বেগম জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন এবং জানান যে, আগামীকাল চট্টগ্রাম থেকে ফিরতে তার দেরি হবে। জেনারেল মঞ্জুর ড্রয়িংরুমে ফিরে এসে বিক্ষুব্ধ অফিসারদের বোঝান যে, আগামীকাল সকালে সার্কিট হাউজে আরেক দফা বৈঠক হবে। তোমরা হতাশ হয়ো না। যার যার মেসে বা বাসায় ফিরে যাও। কিন্তু বিক্ষুব্ধ অফিসাররা জেনারেল মঞ্জুরের কথায় আস্থা রাখতে পারেননি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তারা কালুরঘাট চলে যান। তৎকালে চট্টগ্রামে জেনারেল মঞ্জুরের পক্ষে কর্মরত আমার বন্ধু ফজল ভাই পরবর্তী সময়ে আমাকে জানিয়েছিলেন, জিয়া হত্যাকাণ্ডের পর জেনারেল মঞ্জুর জেনারেল এরশাদের সঙ্গে সমঝোতা করতে চেয়েছিলেন। এ সমঝোতার প্রস্তাবসহ একটি গানবোটে করে নৌবাহিনীর তৎকালীন প্রধান মাহবুব আলী খানকে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সুচতুর এরশাদের কৌশলের কাছে মাহবুব আলী খান আত্মসমর্পণ করেন এবং জেনারেল মঞ্জুরের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেন।

সবকিছু শেষে বলা যায়, জিয়া হত্যার পর কয়েকটি বিষয় আজও অমীমাংসিতই রয়ে গেছে-

১. বেগম জিয়া দুবার ক্ষমতায় থেকেও কেন স্বামী হত্যার বিচার করেননি? ২. জেনারেল মঞ্জুর ছিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা সম্মুখযোদ্ধা, তার হত্যার বিচারও আজ অবধি হয়নি কেন? ৩. শুভপুর ব্রিজে আত্মসমর্পণকারী সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যদের জীবন ও চাকরির নিশ্চয়তার বিনিময়ে তারা আত্মসমর্পণ করেছিলেন। এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জেনারেল ওসমানী স্বয়ং বেতার ঘোষণার মাধ্যমে। তার পরও কেন তাদের বিচার ও শাস্তি হলো? ৪. বেগম জিয়াকে কেন তার স্বামীর লাশ দেখতে দেওয়া হয়নি? এবং এখনো কেন তার লাশ নিয়ে সৃষ্ট ধূম্রজাল নিরসনের লক্ষ্যে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়নি?

লেখক সরকারের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা

Facebook Comments Box

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১