বুধবার, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সব

Singapore
Corona Update

Confirmed Recovered Death
58,228 58,139 29

Bangladesh
Corona Update

Confirmed Recovered Death
467,225 383,224 6,675

ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়ায় ভারতীয় হাইকমিশনার

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ-ভারত সাংঘর্ষিক নয়, পরিপূরক

বাংলাদেশঃ | ২১ নভেম্বর ২০২০ | ৫:২০ অপরাহ্ণ
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ-ভারত সাংঘর্ষিক নয়, পরিপূরক ছবিঃ সংগৃহীত

প্রতিবেশী দুই দেশ বাংলাদেশ ও ভারতের একসঙ্গে সমৃদ্ধি অর্জন অসংগতি নয়; বরং সম্পূরক বলে জানিয়েছেন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনারকে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষে ফুল ও ক্রেস্ট তুলে দেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর। বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ইডাব্লিউএমজিএল পরিচালক ও কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, ডেইলি সান সম্পাদক এনামুল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর ডটকম সম্পাদক জুয়েল মাজহার, বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিনিধি ও নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে নবনিযুক্ত প্রেস মিনিস্টার শাবান মাহমুদ, নিউজটোয়েন্টিফোরের হেড অব নিউজ রাহুল রাহাসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর বলেন, ‘ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ। আমরা উভয় দেশই পরস্পর সমৃদ্ধ ও সুখী প্রতিবেশী দেশ হিসেবে একে অপরকে দেখতে চাই।’

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে সম্পর্ক, তেমনটি বিশ্বের খুব কম দেশই দাবি করতে পারে। এ সম্পর্কের অসাধারণ দিকটি হলো মুক্তিযুদ্ধ। দখলদার পাকিস্তানিদের বর্বর নির্যাতন-নিপীড়ন, জেনোসাইডের সময় বাংলাদেশের জনগণের মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করতে পেরে ভারত গর্বিত।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এটি অব্যাহত রাখতে আমাদের আগ্রহের কোনো কমতি নেই। জনগণের মৌলিক স্বার্থেই বন্ধুত্ব জোরদার করা প্রয়োজন। আমরা আরো ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন যোগাযোগ বাড়াতে পারি। আরো সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, আরো সমৃদ্ধ ভারত অসংগতি নয়, বরং পরিপূরক।’

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশে আরো সমৃদ্ধির অর্থ এখানে আমাদের (ভারতের) বাণিজ্যের আরো সুযোগ, যৌথ উদ্যোগ। এটি করলে আমরা একসঙ্গে আরো উন্নতি করব।’

বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, ‘আয়নায় পেছনের দিকে নয়; বরং সামনের দিকে দেখা উচিত। আমাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। আমরা উভয়েই বিশ্বের তুলনামূলক নবীন দেশ। অনেক তরুণ শক্তি, উদ্যম আছে। শুধু সুযোগ প্রয়োজন।’

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে রচিত বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বিশ্বে রোল মডেল হবে। বাংলাদেশে এ বছর মুজিববর্ষ উদযাপিত হচ্ছে। একই সঙ্গে আগামী বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি হবে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হবে বলে আমরা আশা করছি। এ লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আসন্ন বিজয় দিবস উপলক্ষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠানের কার্যক্রম চলছে। এসব কাজের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে।’

বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আমরা বাড়াতে চাই। তবে করোনাভাইরাসের পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। করোনা-পরবর্তী সময়ে দুই দেশের বাণিজ্য কিভাবে আরো বাড়ানো যায়, করোনার প্রভাব কিভাবে কাটিয়ে ওঠা যায়, আমরা সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছি। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে।’ বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশ ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সহায়তা করলেও বাংলাদেশের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে। আমরা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশ। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত মানবিক দিক বিবেচনায় রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান চায়।’

ভারতে সম্প্রতি জারি করা ‘কাস্টমস (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব রুলস অব অরিজিন আন্ডার ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট) রুলস, ২০২০ (কারোটার, ২০২০)’-এর কারণে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিতে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, ‘৩০ পৃষ্ঠার ওই ডকুমেন্টে একটি অনুচ্ছেদে বলা আছে যে সাফটা, সাপটাসহ বিদ্যমান আন্তর্জাতিক চুক্তির সঙ্গে এই বিধিগুলোর কোনোটিই প্রযোজ্য হবে না।’ তিনি বলেন, “সাফটা (সার্ক প্রেফারেনশিয়াল ট্রেডিং অ্যারেঞ্জমেন্ট) ও সাপটার (দক্ষিণ এশিয়া মুক্তবাণিজ্য অঞ্চল) আওতায় দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিবেশীদের যে সুবিধা দেওয়ার অঙ্গীকার আছে, তার ওপর এর প্রভাব পড়বে না, পড়তে পারে না। ওই বিধিতে ‘রুলস অব অরিজিনের’ ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।”

ভারত হঠাৎ করে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার আগে আগাম পূর্বাভাস দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায় কি না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘এ ধরনের ব্যবস্থা থাকা যে দরকার, সে বিষয়ে আমরা একমত। আমরা আমাদের দেশের কৃষি বাজার ব্যবস্থা উন্নত করার চেষ্টা করছি। বাংলাদেশের কৃষিবাজার ও বাণিজ্যে ভারত সহযোগিতা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে দুই দেশ পরস্পরের প্রয়োজনে পেঁয়াজ দিতে ও নিতে পারবে।’

মতবিনিময় শেষে ভারতীয় হাইকমিশনার নিউজটোয়েন্টিফোর টেলিভিশন কার্যালয় পরিদর্শন করেন।

Facebook Comments

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১