শুক্রবার, ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সব

Singapore
Corona Update

Confirmed Recovered Death
58,239 58,145 29

Bangladesh
Corona Update

Confirmed Recovered Death
471,739 388,379 6,748

জীবনযুদ্ধে রেমিটেন্সযোদ্ধা

মোঃ হেদায়েত উল্লাহ তুর্কী | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ
জীবনযুদ্ধে রেমিটেন্সযোদ্ধা

বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের আমরা সম্মান দেখিয়ে বলি রেমিটেন্সযোদ্ধা। করোনা মহামারীতে সেই সকল রেমিটেন্সযোদ্ধা আজ লড়ছেন জীবনযুদ্ধে। বিদেশে কর্মরত থেকে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশে রেমিটেন্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা শ্রমিকরাই আজ দেশে যেন অনেকটাই অপয়া হয়ে গেছে। দেশে আজ তাদের পাশে স্বজন কেউ নেই। তাদের উপার্জিত অর্থ দিয়ে পরিবারের যে সকল সদস্যরা চলেছেন রাজার হালে সেই সকল সদস্যরাই আজ তাদের সঙ্গে আচরণ করছেন মিসকিনের মতো। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারী দেখা দিলে সর্বপ্রথম চাকরি হারাতে থাকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত শ্রমিকরা। তাঁরা দেশে ফেরত আসতে বাধ্য হলে শুরু হয় তাদের সঙ্গে বৈরী আচরণ। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে নিজের বাড়ি পৌঁছানো পর্যন্ত নানা জায়গায় তাদেরকে পোহাতে হয়েছে হাজারো বৈরী আচরণ। দেশে সর্বপ্রথম যখন করোনা দেখা দেয় তখন থেকেই দেশে করোনা বিস্তারের জন্য দায়ী করা হতে থাকে বিদেশ ফেরত শ্রমিকদের। দেশে করোনায় আক্রান্ত সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভাল আচারণ করলেও হয়রানির শিকার হতে হয় বিদেশ ফেরত শ্রমিকদের। প্রতিটি বিদেশ ফেরত শ্রমিকের বাড়ি পুলিশ বা গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে লাল পতাকা টাঙ্গিয়ে তাদেরকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার পাশাপাশি একঘরে করে রাখার দৃষ্টান্ত দেখা যায়। সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্নতার ভয়ে অনেকে শ্বশুরবাড়ী বা আত্মীয়স্বজনের বাড়ি গিয়ে লুকিয়ে থাকলেও প্রশাসনের লোকজন তাদের কোমরে দড়ি বেঁধে হোম কোয়ারানটাইনে বাধ্য করেছে অথচ দেশের বড় বড় রাজনীতিবিদ বা আমলারা আক্রান্ত হলে তাদের সঙ্গে ভাল আচরণ করা হয়েছে, তাদের বাড়িতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা রকম খাবার পাঠানো হয়েছে। বিদেশ ফেরত শ্রমিকরা যখন আবার তাদের কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন তখন তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বিভিন্ন হাসপাতাল, ট্রাভেল এজেন্সিসহ সংশ্লিষ্ট অনেকে। বিভিন্ন হাসপাতাল তাদের কাছ থেকে বেশি অর্থের বিনিময়ে তাদেরকে ভুয়া কোভিড-১৯ নেগেটিভ সার্টিফিকেট প্রদান করেছেন তার ফলে তাদের অনেকেই বিদেশ গিয়ে বিমানবন্দর থেকে ফেরত এসেছে এবং গচ্চা দিয়েছে বিমান ভাড়ার টাকা। বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি বিমান কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে কয়েকগুণ দামে টিকিট কাটতে বাধ্য করেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা মন্ত্রণালয় সবাই বিষয়টি অবগত থাকলেও চুপ থেকেছেন নিজেদের স্বার্থে। করোনার সময়ে অনেক শ্রমিক তাঁর কর্মস্থলে কয়েকমাসের বেতব বকেয়া রেখে চলে আসতে বাধ্য হয়েছেন কিন্তু এখন আর বকেয়া বেতন তুলতে পারছেন না। দেশে অবস্থানরত প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক বিদেশ ফেরত শ্রমিকের কর্মস্থানে ফেরত যাওয়া নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দফতর, অধিদফতর বা মন্ত্রণালয়কে দ্রুত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা করে এর সমাধান বের করতে হবে তা না হলে জাতীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে।

একজন শ্রমিক দশ পনেরো বছর বিদেশ থেকে যদি বৈধ উপায়ে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকে তাহলে সরকারের প্রতিদান কি? আমাদের দেশের যে সকল শ্রমিকরা বিদেশে কর্মরত ছিলেন বা আছে তাদের অধিকাংশই নিম্নবিত্ত ঘরের সন্তান এবং স্বল্প শিক্ষিত। তাঁরা দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে না পেরে অনেকেই জায়গা জমি বিক্রি করে বা চড়াসুদে ঋণ নিয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন। করোনার কারণে অনেক শ্রমিক বিদেশ যাওয়ার মাত্র কয়েকমাসের মধ্যে দেশে ফেরত আসতে বাধ্য হয়েছেন। ফলে তাদের খরচকৃত টাকা আয় করতে না পারায় চরম হতাশায় দিনযাপন করছেন। একদিকে তাদের জমিজমা বিক্রির কষ্ট অন্যদিকে মহাজনের সুদের টাকার চাপ সবমিলিয়ে তাঁরা এখন দিশেহারা। এ সময় রাষ্ট্র, সমাজ এবং পরিবারের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

Facebook Comments

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
আর্কাইভ
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১